সোমবার, ২০ মে ২০২৪

শিরোনাম

আমেরিকার ভিসা পেতে করণীয়

রবিবার, জুন ২৫, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: আপনি যদি আমেরিকা যেতে আগ্রহী হোন বা আমেরিকা যদি আপনার স্বপ্নের দেশ হয়ে থাকে, তাহলে এ লেখাটি কেবলই আপনার জন্য। আমরা সাধারণত আমেরিকান ভিসার কথা শুনলেই ভয় পেয়ে যাই, ভয় পেয়ে আর চেষ্টাই করি না। অথচ, বাস্তবতা হল- অন্যান্য দেশের ভিসার তুলনায় আমেরিকান টুরিস্ট ভিসা পাওয়াটা অনেক সহজ। ভয় পাওয়ার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আপনাকে সঠিক উপায়ে চেষ্টা করতে হবে, তাহলেই আপনার ভিসা পাওয়ার সফলতা আসবে।

প্রথমেই বলে নিই, আমেরিকার টুরিস্ট ভিসা আসলে কাদের জন্য? আমেরিকার টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা কারা রাখে? এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া বেশ জরুরী। আমেরিকার মত একটি দেশে যাওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই পার্শ্ববর্তী ও ভাল কিছু দেশ ট্রাভেল থাকাটা জরুরী। কোন দেশ ট্রাভেল না করেই আপনি আমেরিকায় ঘুরতে চলে যাবেন, এটির কোন যুক্তি হতে পারে না৷ এখন প্রশ্ন হল- তাহলে কি সাদা পাসপোর্ট  অথবা শুধু ইন্ডিয়া ভিজিটে আমেরিকার ভিসা হয় না? আপনি অনেকগুলো দেশ ট্রাভেল করলেই আমেরিকার ভিসা পেয়ে যাবেন, ব্যাপারটা এমন নয়। আপনাকে সঠিক পলিসিটা জানতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে সাদা পাসপোর্টেও আমেরিকার ভিসা হয়ে থাকে। আপনার যদি নিজ পরিবারের কেউ অর্থাৎ বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলে মেয়ে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেউ আমেরিকাতে থাকে, তাহলে আপনি সাদা পাসপোর্টেও আমেরিকার ভিসা পাবেন। এছাড়াও, যাদের বয়স একটু বেশি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল, তারা যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে ইন্টারভিউ দিতে পারে, তাহলে তারাও সাদা পাসপোর্টে আমেরিকার ভিসা পেতে পারে।

টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে ইনভাইটেশনের কোন প্রয়োজন আছে কি? উত্তর হল না। টুরিস্ট ভিসার জন্য ইনভাইটেশন প্রয়োজন নেই। কেউ যদি আমেরিকাতে কোন কনফারেন্স বা সেমিনার অথবা কোন মেলায় যোগ দিতে চান, সে ক্ষেত্রে ইনভাইটেশনের প্রয়োজন আছে। এছাড়া, শুধুমাত্র ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইনভাইটেশনের কোন প্রয়োজন নেই।

এবার আসি ডকুমেন্টসের বিষয়ে। আমেরিকার টুরিস্ট ভিসা সম্পূর্ণ ইন্টারভিউ নির্ভর একটি ভিসা৷ আমেরিকার টুরিস্ট ভিসার জন্য ডকুমেন্টস নিয়ে চিন্তা করার কোনই প্রয়োজন নেই। তবে হ্যাঁ, ডকুমেন্টস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কিনা আপনি আমেরিকার মেডিকেল/স্টুডেন্ট/বিজনেস ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন। এসব ভিসার ক্ষেত্রে দূতাবাস আপনার কাছে নানা প্রকার ডকুমেন্টস দেখতে চাইতে পারে। তবে টুরিস্ট ভিসার জন্য কোন প্রকার ডকুমেন্ট দূতাবাস সচরাচর দেখতে চায় না।

আবার অনেকেই মনে করেন, আমেরিকার ভিসা কন্ট্রাক্টে করা যায়। ব্যাপারটা একদমই ভুল। আমেরিকার ভিসা কন্ট্রাকে হয় না, ভুলেও এ কন্ট্রাকে যাবেন না। কারণ, আমেরিকান দূতাবাসের সাথে কারো লিংক বা লবিং থাকার কোন প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি বলে থাকে, আমেরিকা দূতাবাসরে সাথে লিংক আছে, তার মানে তিনি আপনাকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।

এবার আপনাদের আমেরিকার টুরিস্ট ভিসা প্রসেসের ব্যাপারে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমেরিকান টুরিস্ট ভিসা সাধারণত পাঁচ বছরের মাল্টিপোল ভিসা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের মধ্যে আপনি যত বার খুশি আমেরিকায় যাতায়াত করতে পারবেন। এ ভিসাটি মূলত দুটা জিনিসের উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। ডিএস-১৬০ ফর্ম অর্থাৎ এপ্লিকেশন ফর্মের উপর ও ছোট একটি ইন্টারভিউর উপর। নির্ভুলভাবে ডিএস-১৬০ ফর্ম ফিলাপ করে যদি আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ইন্টারভিউতে কন্সুলার অফিসারকে এটা বিশ্বাস করাতে পারেন যে, আপনার আমেরিকা যাওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে এবং আপনি আমেরিকায় যাবেন ও ফিরে আসবেন, তাহলেই আপনার ভিসা হয়ে যাবে।

ইন্টারভিউ বাংলাদেশে সাধারণত দুই ভাষায় হয়ে থাকে- বাংলা ও ইংরেজী। আপনি চাইলে বাংলাতেও ইন্টারভিউ দিতে পারবেন। ইন্টারভিউ সাধারণত দুই থেকে দশ মিনিটের হয়ে থাকে। আপনি আমেরিকা যাওয়ার যোগ্য, সেটা দূতাবাসকে কি করে বুঝাবেন? সেটা বুঝাবেন, আপনার এপ্লিকেশন ফর্মের মাধ্যমে অর্থাৎ ডিএস- ১৬০ ফর্মের মাধ্যমে। আমেরিকান দূতাবাসের একটি অনলাইন ফর্ম আছে; যার নাম ডিএস- ১৬০ ফর্ম। এ আবেদন ফর্ম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ফর্মের উপর আপনার ভিসা অনেকাংশ নির্ভর করে। তাই, অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা ফর্মটি পূরণ করা উচিত। মূলত এ ফর্মটি আপনার ভিসা পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়। আপনি বলতে পারেন, ৭০ শতাংশ চান্স নির্ভর করে ডিএস- ১৬০ ফর্মের উপর। বাকি ৩০ শতাংশ নির্ভর করে আপনার ইন্টারভিউর উপর। এ দুইটির সঠিক সফল কম্বিনেশনই আপনার ভিসা পাওয়া চান্স নিশ্চিত করবে। বেশিরভাগ মানুষ যে ভুলটা বেশি করে থাকে, সেটা হল- ডিএস- ১৬০ ফর্ম অদক্ষ কাউকে দিয়ে পূরণ করে ইন্টারভিউতে চলে যায়। এতে করে হয়ত কিছু টাকা বেঁচে যায়। তবে, ফলাফল হয় ভিসা রিজেকশন। আবার অনেকেই ভিসা পেয়েছেন, তাদের থেকে ইন্টারভিউর গাইডলাইন নিয়ে ইন্টারভিউ ফেস করতে চলে যায়। অথচ তার প্রোফাইল ও উনার প্রোফাইল কিন্তু ভিন্ন। এটা কখনই করবেন না। আপনাকে আপনার প্রোফাইল অনুযায়ী ইন্টারভিউর গাইডলাইন নিতে হবে। মনে রাখবেন, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর জিনিস। ওষুধের দোকানদার আপনাকে পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু, মনে রাখবেন, তিনি ডাক্তার না। অনেকেই বলেন, ভাই ডিএস- ১৬০ কি আসলেই এত জটিল কিছু? যেহেতু আমেরিকার মত একটি দেশ পুরো পৃথিবী থেকে এ ফর্মের উপর ভিত্তি করে ভিসা ইস্যু করে থাকে, তাহলে আপনি নিজেই চিন্তা করুন এ ফর্ম কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, উত্তর পেয়ে গেছেন। অর্থাৎ, আপনি যদি ইন্টারকানেক্টেড তথ্য দিয়ে চমৎকারভাবে একটা কমপ্লিট ডিএস- ১৬০ ফর্ম পূরণ করতে পারেন, তাহলেই ইনশাআল্লাহ আপনি ভিসা পাবেন। কারণ, ইন্টারভিউর আগে এ ফর্মের উপর স্টাডি করেই সাধারণত আপনার ভিসা ইস্যু করে থাকে। আর ইন্টারভিউতো হয় মাত্র দুই থেকে পাঁচ মিনিট। এ সময়ের মধ্যে আপনাকে আর কি বা যাচাই বাঁচাই করার থাকে। তাই, অদক্ষ লোক দ্বারা ফর্ম ফিলাপ করলে আপনার ভিসা হওয়ার থেকে না হওয়ার সম্ভানাই বেশি থাকে। আরো একটা জিনিস মনে রাখবেন, ডিএস- ১৬০ ফর্মের তথ্য এবং আপনার ইন্টারভিউয়ের তথ্য- এ দুইয়ের মধ্যে চমৎকার ও শৈল্পিক একটা মিল থাকতে হবে।

নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন। সঠিক গাইড লাইন ফল করুন। সঠিক তথ্য দিয়ে ডিএস- ১৬০ ফর্ম ফিলাপ করুন। ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুতি নিন। আপনার ভিসা কেউ আটকাতে পারবে না।

আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর: আমেরিকার ভিসার জন্য কত টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স দেখাতে হবে? উত্তর: যেহেতু আমেরিকার দূতাবাস ডকুমেন্টস দেখে না। তাই, ব্যাংক ব্যালেন্স তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে, আপনি যতটুকু টাকা আমেরিকা ঘুরে আসার জন্য প্রয়োজন, ততটুকু টাকা ব্যাংকে রেখে দিতে পারেন। প্রশ্ন: হোটেল বুকিং, প্লেনের টিকেট বুকিংয়ের কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা? উত্তর: ভিসা পাওয়ার আগে পর্যন্ত এসব হোটেল বুকিং, প্লেনের টিকেট বুকিংয়ের কোন প্রয়োজন নেই। এগুলা ভিসা পাওয়ার পর প্রয়োজন হয়। প্রশ্ন: এনওসি/জিও লাগবে কিনা? উত্তর: ইন্টারভিউয়ের সময় কন্সুলার অফিসার কখনই এনওসি/জিও দেখতে চায় না। তবে, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় ইমিগ্রেশন অফিসার এনওসি/জিও দেখতে চাইতেও পারে। প্রশ্ন: পিটিশন/ইমিগ্রেন্ট ফাইল এপ্লাই করা থাকলে টুরিস্ট ভিসায় এপ্লাই করা যায় কিনা? উত্তর: অবশ্যই এপ্লাই করা যায়। একটি ইমিগ্রেন্ট ফাইল প্রসেস হতে ১০-১৫ বছরের মত সময় লাগে। এর মধ্যে আপনি চাইলে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। প্রশ্ন: এপ্লাই করলে ইন্টারভিউ ডেট কবে পাওয়া যাবে? উত্তর: বর্তমানে আমেরিকার টুরিস্ট ভিসার ইন্টারভিউ ডেট প্রায় এক বছর পর পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকার টুরিস্ট ভিসার দূতাবাস ফি ১৬০ ডলার; যা বাংলাদেশী টাকায় কনভার্ট করলে আসে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। এ টাকা শুধুমাত্র ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে জমা দিতে হয়। দূতাবাস ফি জমা দিয়ে আপনাকে ইন্টারভিউর জন্য ডেট নিতে হবে।

দূতাবাস ফি জমা দেয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন: পাসপোর্টের স্ক্যান কপি; একটি ফোন নাম্বার ও একটি ইমেইল আইডি

আবেদন করার জন্য যা যা প্রয়োজন: ছবি ২×২ সাইজ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড (ল্যাব কপি); আপনার মা-বাবার তথ্য; আপনার শিক্ষাগত সব তথ্য;  আমেরিকায় যদি আপনার পরিচিত কেউ থেকে থাকে তার তথ্য; স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য; ব্যবসায়/চাকরিজনিত সব তথ্য; পূর্ববর্তী ট্রাভেল হিস্ট্রি; কোন সংস্থায় জড়িত থাকলে সেই সংস্থার নাম।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন