মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪

শিরোনাম

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানির পশু নির্বাচনে করণীয়

শুক্রবার, জুন ১৪, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

মুমিন বান্দার জীবনে কোরবানির গুরুত্ব সীমাহীন। কারণ মুমিনের জীবনের একমাত্র আরাধনা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আর প্রকৃত কোরবানি তাকে অত্যন্ত দ্রুত আল্লাহর নৈকট্যে ভূষিত করে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু উৎসর্গ দেয়াকে কোরবানি বলে। কোরবানি ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। যারা সামর্থ্যবান তাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানকে কোরবানি করতে উৎসাহ দিয়েছেন।

মুসলিম উম্মাহর সর্বজনীন দুটি উৎসবের মধ্যে অন্যতম হলো ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদুল আজহা মূলত নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণের শিক্ষা দেয়।

আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছি। জীবনোপকরণ স্বরূপ তাদের যেসব ‘বাহিমাতুল আনআম’ দিয়েছি সেগুলোর ওপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৪)

কোরবানি দিতে হবে শরিয়ত যে ধরনের পশু অনুমোদন করে সেগুলো দিয়ে। যেমন—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি দিয়ে। এ ধরনের পশুকে কোরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহিমাতুল আনআম’ অর্থাৎ ‘অহিংস্র গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু’। এই ছয় প্রকার পশু ছাড়া অন্য কোনো পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না।

নিজের অর্থে কেনা পশুটি আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে জবাই করার মাধ্যমে একজন প্রকৃত মুসলমান নিজেকে আল্লাহর কাছে সমপর্ণ করে।

আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কে কোন উদ্দেশ্যে কোরবানি করছে তা তিনি ভাল করেই জানেন। মূলত মানুষের মধ্যে সকল লোভ লালসা দূর করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সকল পশুত্বকে বিসর্জনের শিক্ষাই হলো কোরবানির শিক্ষা। তাই কোরবানির অন্যতম ধর্মীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের মধ্যে পশুত্বকে হত্যা করে মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলার নিকট কোরবানির দিন মানবজাতির কোরবানি অপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয় কোনো আমল নেই। বিচারদিনে কোরবানির পশুকে তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত করা হবে। পশুর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর কাছে তা বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়, সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো। (তিরমিজি, হাদিস : ১৩৯১)

আল্লাহর রাস্তায় গবাদি পশু কোরবানি করা একটি মহান ইবাদত। এটি কোরবানি প্রদানকারী ব্যক্তিকে আল্লাহর কাছে নিয়ে আসে।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি এটি [কোরবানি] করার সামর্থ্য রাখে, কিন্তু কোরবানি দেয় না, সে যেন আমাদের প্রার্থনাস্থলের কাছে না আসে। (ইবনে মাজা: ৩১২৩)

ঈদুল আযহার জন্য পশু কোরবানি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তারিখে করা যেতে পারে যেমন- ঈদের নামাযের পর (১০ই জিলহজ্জ) এবং ১৩ই জুল হিজ্জার সূর্যাস্তের আগে। যে ব্যক্তি এই তারিখগুলি অনুসরণ করে না সে অবশ্যই জেনে রাখবে যে তাদের কুরবানী বৈধ হবে না যদি তা জিলহজ্জের ১০-১৩ তারিখের মধ্যে দেওয়া না হয়। (সহীহ বুখারী: ৫৫৪৫ এবং সহীহ মুসলিম: ১১৪১)

হাদীসে স্পষ্টভাবে আল্লাহর পথে কোরবানি করার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সেই সব মুসলমানদের জন্যও সতর্কতা রয়েছে যাদের ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য আছে কিন্তু কোনো পার্থিব কারণ বা খোঁড়া অজুহাতে তা করেন না।

সামর্থ্যবান প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য তা ওয়াজিব। ইসলামের এই মৌলিক ইবাদত পালনের আবশ্যকীয় বস্তু হলো শরিয়ত নির্ধারিত হালাল পশু। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানির জন্য এ হালাল পশু ক্রয় করতে হয় সুস্থ, সুন্দর ও হূষ্টপুষ্ট দেখে।

কোরবানি করা পশুকে শরীয়ত অনুমোদিত গবাদি পশুর একটি হতে হবে, যা; উট, গরু, ভেড়া এবং ছাগল। (সূরা হজ ২২:৩৪ এবং সূরা আল আনাম ৬:১৪৩)

একটি ভেড়া বা ছাগল একটি একক নৈবেদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট যেখানে একটি উট বা একটি গরু সাতজন ভাগ করে নিতে পারে৷ [সহীহ মুসলিম: ১৩১৮(ক) এবং ১৯৬১(ক)]

দুর্বল, রুগ্ন ও দোষযুক্ত পশু ক্রয়ের মাধ্যমে কোরবানি ত্রুটিপূর্ণ ও ক্ষেত্রবিশেষে নাজায়েজ হয়ে যায়। তাই এ সময়ে পশু ক্রয়ের ইসলামের বিধানগুলো জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা—এই ছয় প্রকার পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। আর যেসব পশু কোরবানি করা জায়েজ সেগুলোর নর-মাদি দুটোই কোরবানি করা যায়।

এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্য পশু যেমন—হরিণ, বন্য গরু ইত্যাদি দ্বারা কোরবানি করা নাজায়েজ। তদ্রুপ হাঁস-মুরগি এবং যেকোনো পাখি দ্বারাও কোরবানি জায়েজ নেই। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নির্দেশ দিয়েছি। আল্লাহ তাদের রুজি হিসেবে যেসব গৃহপালিত পশু দিয়েছেন তার ওপর তারা যেন কোরবানি করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে।

উট কমপক্ষে পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছর। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এক বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হূষ্টপুষ্ট হয় যে দেখতে বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কোরবানি করা জায়েজ।

জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তোমরা কোরবানির জন্য ‘মুসিন্নাহ’ ছাড়া জবাই কোরো না।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৬৩)

আর মুসিন্নাহ হলো, পাঁচ বছর বয়সী উট, দুই বছরের গরু ও এক বছর বয়সী ছাগল।

বিখ্যাত সাহাবি বারা বিন আজিব (রা.) কোরবানির পশু সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করে বলেছেন, ‘চার ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না : ১. যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট। ২. যে পশু অতি রুগ্ণ। ৩. যে পশু সম্পূর্ণ খোঁড়া। ৪. যে পশু এত শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই।’ লোকেরা বলল, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী (দ্বারা কোরবানি করা)ও অপছন্দ করি? তিনি বলেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারো। তবে তা অন্যের জন্য হারাম কোরো না।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৯১৯)

যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কোরবানি জায়েজ নেই। আর যদি অর্ধেকের বেশি কান বা লেজ থাকে তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে কোরবানিতে কোনো অসুবিধা নেই। আলী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আদেশ করেছেন, আমরা যেন কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালো করে দেখে নিই এবং কান কাটা, কান ছেঁড়া বা কানে গোলাকার ছিদ্র করা পশু দ্বারা কোরবানি না করি। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৮০৪)

যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নেই।

আর যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কোরবানিও জায়েজ নয়। তবে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশুর কোরবানি জায়েজ। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১৫)

গরুর বয়স ন্যূনতম দুই বছর হলেই এটা কোরবানির জন্য উপযুক্ত হবে। গরুর বয়স জানার সবচাইতে ভালো উপায় হল এর দাঁত পর্যবেক্ষণ করা। গরুর দাঁতের সংখ্যা এবং সেই দাঁতের ক্ষয়ের পরিমাণ দেখে নির্ণয় করা যায় তার বয়স। আমাদের যেমন দুধ দাঁত রয়েছে তেমন অস্থায়ী দাঁত গরুরও রয়েছে। স্থায়ী দাঁতের থেকে এগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায় কারণ এগুলো আকারে ছোট এবং তুলনামুলকভাবে বেশি সাদা। একটা পূর্ণবয়স্ক গরুর মুখের ভেতরে ৩২ টা দাঁত থাকে। নিচের পাটিতে সামনের দাঁত বা কর্তন দন্ত থাকে ৮ টা।

জন্ম থেকে এক মাস বয়সের মাঝে অস্থায়ী দাঁত উঠতে শুরু করে। এক মাসের মধ্যে নিচের পাটির সামনের আটটা অস্থায়ী দাঁত উঠে যায়।

এক বছর বয়সে সামনের মাঝের দুটো অস্থায়ী দাঁত পড়ে যায় ও সেখানে স্থায়ী দুটো দাঁত ওঠে যেগুলো আকারে পাশের দাঁতগুলোর থেকে বড়। দুই বছর বয়সের মাঝে এই দুটো দাঁত বেশ বড় আকার ধারণ করে।

দুই বছর থেকে আড়াই বছরের মাঝে সামনের দুইটা দাঁতের দুই পাশে আরও একটা করে স্থায়ী দাঁত ওঠে ফলে সামনে স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা হয় চারটা। তিন বছরের মাঝে এই পাশের দুইটা দাঁতও সম্পূর্ণ আকৃতি ধারণ করে।

তিন বছরের মাঝে পাশে আরও দুইটা দাঁত ওঠে ফলে সামনে স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা হয় ছয়টা। সাড়ে তিন বছরের মাঝে এই দুটা পূর্ণ আকৃতি ধারণ করে।

চার থেকে পাঁচ বছরের মাঝে সামনে আটটা স্থায়ী দাঁতই উঠে যায়।

পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সে একেবারে সামনের দুটো দাঁত ক্ষয় হতে হতে সমান হয়ে যায় এবং পাশের বাকি দাঁতগুলোতেও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যায়।

গরু বাহ্যিকভাবে দেখতে সুস্থ-সবল কিনা সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভালো দাম পাওয়ার আশায় প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে একদল অসাধু ব্যবসায়ি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গরু মোটা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও রাসায়নিক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করেন। এতে গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে শুরু করে। এ কারণে রাসায়নিক দেয়া গরু বেশি মোটা দেখায়। এদের গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সেখানে দেবে গর্ত হয়ে থাকে অথবা সাথে সাথে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।

ওষুধ ও রাসায়নিকের প্রভাবে মোটা হওয়া গরু অতিরিক্ত ওজনের কারণে চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারেনা। রাসায়নিকযুক্ত গরু ভীষণ ক্লান্ত থাকবে এবং ঝিমাবে। সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কান ও লেজ দিয়ে মশা মাছি তাড়ায়। সীমান্ত পার হয়ে আসা বাইরের গরুগুলোও ভ্রমণজনিত ক্লান্তির কারণে ক্লান্ত থাকে। এ ধরণের ঝিমাতে থাকা গরু সুস্থ নাকি অসুস্থ সেটা বোঝা বেশ কঠিন। তাই দেশি গরু কেনা ভালো সিদ্ধান্ত।

রাসায়নিক বা ওষুধ খাওয়ানো গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে শুরু করায় এগুলো শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে। গরুটির কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত নষ্ট হতে থাকে এবং গরুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া অনেক গরু খুড়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে বেশি থাকে। চামড়ায় কাটা ক্ষত দেখে নিতে হবে। দেখতে হবে কান কাটা, শিং ভাঙা, লেজ কাটা, খুরের মধ্যে ক্ষত বা জিহ্বায় ঘা আছে কি না। এছাড়া অনেক গরু কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের গরু বেশ বিবর্ণ ও হাড় জিরজিরে হয় বলে তিনি জানান।

গাভি বা বকনা গরু না কেনাই ভালো। নিতান্তই কিনতে হলে পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে পশুটি গর্ভবতী কি না। গর্ভবতী পশু কোরবানি হয় না।

পশুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি জিহ্বা দিয়ে টেনে নেয় এবং নাকের ওপরটা ভেজা ভেজা থাকে তাহলে বুঝতে হবে গরু সুস্থ। অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চাইবে না।

গরুর কুঁজ মোটা টানটান হলে গরু সতেজ, সুস্থ হয়। সুস্থ গরুর চামড়ার ওপর দিয়ে কয়েকটা পাঁজরের হাড় বোঝা যাবে। সুস্থ গরুর নাকের উপরের অংশটা ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকবে। অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক থাকবে শুকনা। সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত থাকবে। যেখানে রাসায়নিক দেয়া গরুর পা হবে নরম থলথলে।

পশু জবাই করার সময় ব্যক্তিকে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হবে এবং তাকবীর (বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার) পাঠ করতে হবে। (সহীহ বুখারীঃ ৫৫৫৮)

কোরবানির পশুর গোশতকে তিন ভাগে ভাগ করা উচিৎ বলে অনেক আলিমের অভিমত। যে ব্যক্তি (এবং তার পরিবার) কোরবানি দিচ্ছে তার জন্য এক তৃতীয়াংশ, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়/প্রতিবেশীদের মধ্যে উপহার হিসাবে বিতরণ করতে হবে এবং এক তৃতীয়াংশ গরীবদের দান করতে হবে।

কুরবানীকৃত পশুর সমস্ত অংশ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যাবে কিন্তু কোনোটিই বিক্রি বা পরিশোধ করা যাবে না (এমনকি কসাইকে তার মজুরি হিসেবে) অন্যথায় কোরবানি বাতিল হয়ে যাবে। (সহীহ আল-জামি: ৬১১৮)

ইসলামের অন্যতম নিদর্শন এই ইবাদতটি সম্পাদনের মূল উপলক্ষ কোরবানির জন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বাধিক সতর্কতা ও সচেতনতা একান্ত কাম্য। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য শরিয়ত নির্দেশিত মত ও পথে আমাদের সবার কোরবানি বাস্তবায়িত হোক।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন