রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪

শিরোনাম

ইভিএমের বিপক্ষেই বেশি কথাবার্তা হয়েছে: সিইসি

মঙ্গলবার, জুন ২৮, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত পরিস্কার এবং স্পষ্ট। মন থেকে চাই, চেতনা থেকে চাই। ৩০০ আসনে ইভিএম হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সাপোর্ট করি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক সংলাপে ডাকছে, আর এ ব্যাপারে আমাদের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার অ্যান্ড লাউডার আমরা গতবার যেটা বলেছি। এবারও একই দাবি আমরা পুনরাবৃত্তি করছি। আমরা চাই যে, এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করুক। এদিকে ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত বিপক্ষেই বেশি কথাবার্তা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।  

আগামী সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরী করতে দেশের শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও সুশিল সমাজ,গণমাধ্যম ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সাথে বৈঠক করেছে ইসি। এরপর রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করার কথা রয়েছে। তার আগে ইভিএম যাচাইয়ে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে তিন ধাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। প্রথম দুই ধাপে ২৬টি দলকে আমন্ত্রণ জানালেও উপস্থিত ছিলো ১৮টি দল। বিএনপিসহ বাকি আটটি দল ইসির ডাকে সাড়া দেয়নি। আর যারা সাড়া দিয়েছে ইভিএম নিয়ে তাদেরও রয়েছে ভিন্ন মত। গতকাল মঙ্গলবার শেষ ধাপে ১৪ টি রাজনৈতিক দলকে ইভিএম যাচাইয়ের আমন্ত্রণ জানান ইসি। এতে আওয়ামী লীগসহ ১০টি দল উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখানে আসছে। আমার মনে হয় অধিকাংশই ইভিএমের পক্ষে বলেছেন। আজকে অনেকগুলো দল এসেছে। আমরা সবার কথা শুনেছি। ইভিএম নিয়ে বিরুদ্ধেও বলেছেন দুয়েকজন। এটা তো গণতন্ত্র। বিউটি অব ডেমোক্রেসি। বিরুদ্ধে তো বলবেনই। ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেটা তো কোনো অসুবিধা নেই। ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে কি ইসি সক্ষম? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্যাট ইজ দ্যা ডিসিশন অব ইলেকশন কমিশন। এটা তাদের এখতিয়ার। আপনারা কি সব আসনে ইভিএম চান? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই। আমরা যখন দেখেছি রাজশাহীর একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ইউনিয়ন যেখানে দিনের আলোও ঠিক মতো যায় না। ঠিক এই রকম একটা জায়গায় ইভিএমে ইলেকশন হয়েছে। অংশগ্রহণ ছিলো বিশ্বাসযোগ্য না এ রকম। প্রচুর উপস্থিতি এবং মহিলারা পর্যন্ত লম্বা লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছে। কাজেই ইভিএম অজনপ্রিয় এ কথা বলার আর এখন কোনো প্রয়োজন নেই।

বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে উল্লেখ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আগেও বলেছি- আমার বিশ্বাস যে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। আমরাও চাই বিএনপি আসুক। আমরাও চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন ইলেকশন। সে কারণে বিএনপির মত একটা বড় দল বাইরে থাকবে এটা আমরা চাই না। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) অনেক কথাই বলে, শেষ পর্যন্ত আসল কথায় চলে আসে। আমি একটা কথা বলি, নির্বাচন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা বিএনপির অধিকার। সরকারের সুযোগ বিতরণ না। এটা একটা সুযোগ নয় যে, সরকার বিতরণ করবে। এটা হচ্ছে বিএনপির অধিকার। দল হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে তারা আসবে। আমরা এটাই বিশ্বাস করি।  তিনি বলেন, দল হিসেবে আমরা বলেই যাচ্ছি। আমরা পদ্মা সেতুতেও দাওয়াত দিয়েছি। দেখেন আমাদের একটা পজেটিভ এটিচিউড আছে। তারা (বিএনপি) নিজেরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো শেষ বেলায়। ঘোলা করে খাবে আর কি।

তিনি আরো বলেন, একটা কথা সবাই বলে, সরকারের অধীনে। আমি অবাক হয়ে শুনি ফখরুল সাহেব বলেন এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না। ইলেকশন তো এই সরকারের অধীনে হবে না। ইলেকশন হবে ইলেকশন কমিশনের অধীনে। সরকার একটা কর্তৃত্বপূর্ণ স্বাধীন ভূমিকা ফর ক্রেডিবল, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন। যে যে সহযোগীতা, ফ্যাসিলিটিজ দরকার, সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস আমরা আগেও দিয়েছি, এখনো আমরা নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দিয়েছি। আমরা সব ধরণের সহযোগীতা করবো। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হয়, বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার সরকার সেটাই অনুসরণ করবে। নির্বাচন ব্যবস্থায় আইনের মাধ্যমে কমিশন গঠন হয়েছে। এখানে একটা পজেটিভ চেইঞ্জ হয়েছে। এটা আমরা আরো উন্নত করতে চাই।

এদিকে সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএম নিয়ে বিপক্ষেই বেশি কথাবার্তা হয়েছে। আমরা যখন দায়িত্ব নেই, কিছুদিন পর থেকেই ইভিএম নিয়ে কথাবার্তা পত্রপত্রিকায় চাউর হয়েছিল। এরপক্ষে এবং বিপক্ষেই বেশি কথাবার্তা হয়েছে। শুরু থেকে ইভিএম সম্পর্কে আমাদের সেরকম ধারণা ছিল না। ব্যক্তিগত ধারণাও ছিল না। আমরা ইতোমধ্যেই ইভিএম নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এখন আমাদের মোটামুটি ধারণা আছে।

তিনি বলেন, এর আগে আমরা দুটি সংলাপ করেছি। অনেকেই কিন্তু ইভিএমের পক্ষে বলেছেন। অনেকে সলুশন দিয়ে বলেছে, আরও উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে যদি ইভিএম ক্রয় করা যায় তাহলে আরও ভালো হয়। আবার অনেকে সরাসারি বলেছেন আমরা ইভিএমে নির্বাচনে যাব না। আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিবো। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করবো সেটা আমাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন