বুধবার, ২২ মে ২০২৪

শিরোনাম

এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা

শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২

প্রিন্ট করুন


চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : 
ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যবসায়ীদের দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এতে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করেও  খেলাপি হওয়া থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন গ্রাহক। তবুও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

গত বছরের (২০২১ জুন) একই সময়ে খেলাপির পরিমাণ ছিলো ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ২৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা বেড়েছে খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করার যে সুবিধা দিয়েছে, তা গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে অনাগ্রহী করে তুলেছে। এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে আরও ভয়াবহ হবে খেলাপি ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি ২০২২ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৩ মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ছিলো ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ছিলো ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের তুলনায় তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ২৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ খেলােপি ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপির ৪৪ ভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের। বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ৬২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা যা ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া বিদেশী ব্যাংকের দুই হাজার ৯৫৭ কোটি ও বিশেষায়ীত ব্যাংকের খেলাপি দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৯৪ কোটি টাকায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত আসছে। যে নীতিমালাগুলো সেখান থেকে আসছে সেগুলো ঋণ খেলাপিদের আরও উৎসাহিত করছে। এর বিপরীতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন ব্যাংকের ভালো গ্রাহক। ব্যাংগুলোও খেলাপি ঋণ আদায়ে বিমুখ হয়ে পড়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাদের জবাবদিহিতা করতে হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, হঠাৎ হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগুলো হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং মঙ্গলজনক। যাতে খেলাপি ঋণ, পুনতফসিল, প্রভিশন ঘাটতি কমে আসে। এসব সমস্যা সমাধানে একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা উচিৎ। এর আগেও ব্যাংকিং কমিশনের মাধ্যমে খেলাপি সমস্যার সমাধান হয়েছে।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন