রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

কবির স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: কবির স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে গত ৩১ জানুয়ারী রাত একটায় আরিফুল ইসলাম সুজন নামে একজন কাটার ম্যান কর্মরত অবস্থায় লোহার পাত পড়ার কারণে মারাত্মক আহত হয়ে কর্মস্থলেই মারা যান। ওই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তিনটায় জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের উদ্যোগে এক সভা সংগঠনের এনায়েত বাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক সফর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটি সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক এএম নাজিম উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ফোরামের কোষাধ্যক্ষ রিজওয়ানুর রহমান খান, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরিফুল ইসলাম, জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী, বিএফটিউসির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক কেএম শহিদুল্লাহ।

সভা নেতারা বলেন, ‘জাহাজ ভাঙা শিল্পে বার বার দুর্ঘটনা ঘটলেও মালিক ও সরকার নির্বিকার। কেবল ২০২১ সালেই এ শিল্পে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন বছরে ৪৬ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা যান ও শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। ২০২২ সালে ৩১ জানুয়ারী রাত একটায় কবির স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে আরিফুল ইসলাম সুজনের মৃত্যু প্রমাণ করে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে মালিক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ব্যর্থ হয়েছে।’

নেতারা আরো বলেন, ‘পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ আছে, হতভাগ্য নিহত শ্রমিক উঁচু স্থান হতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহা পরিদর্শক আব্দুল্লাহ সাকিব মুবাররত সাংবাদিকদের কাছে উল্লেখ করেছেন, নিহত শ্রমিক অসুস্থ্য হয়ে বমি করে। ওই বমিতে শ্রমিক পা পিছলে পড়ে যায় ও পরবর্তী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল্লাহ সাকিব মুবাররত এর এধরনের বক্তব্য পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টের সাথে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক ও প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার অশুভ প্রচেষ্টা।’

তারা বলেন, ‘আগে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প খাতে কোন দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত হলে দুর্ঘটনার বিষয়কে ধামাচাপা দেয়ার জন্য মালিক পক্ষ থেকে যে ধরনের বক্তব্য দেয়া হত, তার সাথে আব্দুল্লাহ সাকিব মুবাররতের বক্তব্যের মিল রয়েছে; যা খুবই অনভিপ্রেত।’

একটি সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তার এ ধরনের পক্ষপাতমূলক বক্তব্য ও সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প সেক্টরে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে পতিবন্ধকতা তৈরি করবে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

সভায় জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে এ ধরনের নেক্কারজনক কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের তত্বাবধানে একটি শক্তিশালী উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে উপ মহাপরিদর্শকের পক্ষপাতমূলক বক্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়।

সভায় আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুসরণ করে লস অফ ইয়ার আর্ণিংস হিসাবে নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হয়।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন