রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

করোনাকালীন ভূমিকা/নিউইয়র্কের কারেকশন অফিসার কাজী হাসান পেলেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১২, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: করোনা ভাইরাস অতিমারীর সময় বাংলাদেশি কমিউনিটির সেবায় ভূমিকা রাখায় গোপালগঞ্জের কাজী হাসান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। গেল ২৮ শে সেপ্টেম্বর কুইন্সের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ম্যারিনা বেঙ্কুইট হলে অ্যাসোসিয়েশন অব আফ্রিকান ন্যাশনস ইন কারেকশন ইনকের (এএএনসি) বার্ষিক নৈশভোজ ও আ্যাওয়ার্ড নাইট অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। এএএনসির পক্ষ থেকে তার হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি ওয়ারেন মারাজ।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি এডেনিয়া এডেসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইর্য়ক কারেকশন বিভাগের কমিশনার লুইস এ মলিনা। অনুষ্ঠানে সিটির বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারাসহ পাঁচ শতাধিক কারেকশন অফিসার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কাজী হাসানের অনন্য এ কৃতিত্বের জন্য অনষ্ঠানে তাকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশ কারেকশন সোসাইটির (বিসিএস) ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব সুমন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর খান, উপদেষ্টা ইকবাল সাইফুদ্দিন।

কাজী হাসান বিসিএসের প্রেসিডেন্ট। সংগঠনটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কারেকশন অফিসার ইকবাল সাইফুদ্দীন জানান, কাজী হাসান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার তারাইল গ্রামের কাজী ইদ্রিস হোসেন ও আরজু বেগমের জৈষ্ঠ্য পুত্র। তিনি গেল ছয় বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে নিউইর্য়ক কারেকশন অফিসার হিসেবে কাজ করে আসছেন। এর আগে নিউইর্য়ক সিটি ডিপামের্ন্ট অফ হোমলেস সার্ভিসেসে (ডিএইচএস) পুলিশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাসান। তিনি ২০১৮ সালে কারেকশন বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি অফিসারদের নিয়ে বিসিএস গড়ে তোলেন। হাসান বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দুই শতাধিক সদস্যের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রচার করা, সদস্যদের বিভাগের নীতি এবং নিয়ম সম্পর্কে অবগত করা ও আরো বাংলাদেশি অফিসার নিয়োগে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।

কাজী হাসান বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সহায়তা করার জন্য নিবেদিত ও বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সাথে সক্রিয়। করোনা ভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবের সময় তার নেতৃত্বে বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজ ও নির্ভীকতার জন্য সব মহলে প্রশংসিত হন। সম্প্রতি নিউইর্য়ক সিটি মেয়র এরিক এডামস কারেকশন অফিসার কাজী হাসান ও তার সংগঠনকে শহরের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রশংসাপত্র দিয়েছেন।

এ দিকে, তার জনসেবামূলক কাজে মুগ্ধ হয়ে কারেকশন বিভাগের বর্তমান কমিশনার লুইস মলিনা তাকে নিয়ে টুইট করেন; যা বিভাগে কর্মরত অফিসারদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ সস্ত্রীক ব্রংঙ্কসে বসবাস করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কাজী হাসান বলেন, ‘করোনাকালীন আমার নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশি অফিসার ও তাদের পরিবার এবং কমিউনিটিকে সেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য এ সম্মাননা পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। কমিউনিটিকে সেবা করা শুধু দায়িত্ব না; এটি একটি অনন্য সুযোগ যা আমাকে সহানুভূতি, ধৈর্য্য শক্তি ও সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার মধ্য দিয়ে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আজকের এই অনন্য সম্মান পেয়েছি। আমি এরিক এডামসকে ধন্যবাদ দিতে চাই, বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য।

লুইস মলিনা কারেকশন বিভাগে আরো বাংলাদেশি নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিভাগে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে কারেকশন বিভাগে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করেন কাজী হাসান।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন