বুধবার, ২২ মে ২০২৪

শিরোনাম

গ্রহাণুর নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করতে যাচ্ছে নাসার প্রোব

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র: সাত বছরের মহাকাশ যাত্রা শেষে এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা বৃহত্তম গ্রহাণুর নমুনা বহন করে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) ‘নাসা’র ক্যাপসুল উটাহ মরুভূমিতে অবতরণ করতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘তারা নমুনাটি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী যে, এটি আমাদের সৌরজগতের গঠন ও কীভাবে পৃথিবী বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে আরো ভাল ধারণা দেবে।’

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের মধ্য দিয়ে ওসিরিস-রেক্স প্রোবের চূড়ান্ত অগ্নিগর্ভ অবতরণ বিপজ্জনক হবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা উত্তর-পশ্চিম উটাহে একটি সামরিক পরীক্ষার পরিসরে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে (১৫এইচ ০০ জিএমটি) এটির নিরাপদে অবতরণ আশা করছে।

২০১৬ সালে উৎক্ষেপণের চার বছর পর, প্রোবটি গ্রহাণু বেন্নুতে অবতরণ করে এবং এর পাথুরে পৃষ্ঠ থেকে প্রায় নয় আউন্স (২৫০ গ্রাম) ধুলো সংগ্রহ করে।

নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেছেন, ‘এমনকি এই সামান্য পরিমাণ নমুনা থেকেও আমরা ‘আমাদের পৃথিবীর’ জন্য হুমকি হতে পারে- এমন গ্রহাণুগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে আরো ভালভাবে বুঝতে পারবো’ ও ‘আমাদের সৌরজগতের প্রচীনতম ইতিহাসে আলোকপাত করবে।’

‘এই নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসা সত্যিই ঐতিহাসিক ঘটনা’ উল্লেখ করে নাসার বিজ্ঞানী অ্যামি সাইমন বলেছেন, ‘অ্যাপোলো চাঁদের শিলা’ পৃথিবীতে নিয়ে আসার পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় নমুনা হতে চলেছে।’

কিন্তু, তিনি স্বীকার করেছেন, ক্যাপসুলটির অবতরণে একটি বিপজ্জনক কৌশল’ প্রয়োজন হবে।

অবতরণের চার ঘন্টা আগে ৬৭ হাজার মাইলের (এক লাখ আট হাজার কিলোমিটার) বেশি উচ্চতা থেকে ওসিরিস-রেক্স ক্যাপসুলটি ছেড়ে দেবে।  বায়ুমন্ডলের মধ্য দিয়ে শেষ ১৩ মিনিটের মধ্যে এটি জ্বলন্ত ফায়ার বলে পরিণত হবে। কারণ, এ সময় ক্যাপসুলটি পাঁচ হাজার ফারেনহাইট (দুই হাজার ৭৬০ সেলসিয়াস) পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ ঘন্টায় ২৭ হাজার মাইলেরও বেশি গতিতে নিচের দিকে ধাবিত হয়। এর দ্রুত অবতরণ, সেনাবাহিনীর সেন্সর দ্বারা নিরীক্ষণ করা হবে, পরপর দুটি প্যারাশুট দিয়ে গতি ধীর করা হবে। তারা সঠিকভাবে এ প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলে এটি ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ অনুসরণ করবে।

যদি মনে হয় যে, টার্গেট জোন (৩৭ বাই নয় মাইল) মিস করা হতে পারে, নাসার কন্ট্রোলাররা শেষ মুহুর্তে ক্যাপসুলটি ছেড়ে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এক বার টায়ারের আকারের ক্যাপসুলটি উটাহে নেমে গেলে, প্রতিরক্ষামূলক মুখোশ ও গ্লাভস পরা একটি দল এটিকে হেলিকপ্টার দিয়ে কাছাকাছি একটি অস্থায়ী ‘পরিষ্কার ঘরে’ নিয়ে যাবে।

নাসা মরুভূমির বালির সাথে নমুনার কোন দূষণ এড়াতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ও সাবধানতার সাথে এটি করতে চায়।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নমুনাটি বিমানে করে টেক্সাসের হিউস্টনে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখানে, বাক্সটি অন্য একটি ‘পরিষ্কার ঘরে’ খোলা হবে।

আগামী ১১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে তার প্রথম ফলাফল ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে নাসা।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন