সোমবার, ২০ মে ২০২৪

শিরোনাম

চবির শাটল ট্রেন চালু হবে রোববার, মামলা নিয়ে মুখ খুলছে না কেউই

শনিবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের ছাদে ধাক্কা লেগে কয়েকজন আহত হওয়ার পর শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে৷ আগামীকাল রোববার থেকে শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় তিন মামলার বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শাটল ট্রেন বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদীন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ট্রেন চালানোর নির্দেশ দিলে ট্রেন চালানো হবে।

তবে সহকারী প্রক্টর সৌরভ সাহা জয় জানিয়েছেন, শাটল ট্রেন রোববার থেকে স্বাভাবিক সময়সূচিতে চলবে।

এ দিকে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনার পর গত শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক ক্লাব এবং পরিবহন ভাঙচুরের ঘটনায় ৩টি মামলা করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। তবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলার বিষয়ে এখনও কোন তথ্য দিতে পারেনি কোন পক্ষই।

উপাচার্যের সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর হাটহাজারী থানার ওসি মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে মামলার বিষয়ে জানতে কল দিলে থানার পরিদর্শক নুরুল আলম কল ধরেন।

তিনি তখন জানিয়েছেন কোন মামলা দায়ের হয়নি।

পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যায় পরিদর্শক নুরুল আলমের কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার এ বিষয়ে মিডিয়াকে জানাবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী পুলিশ সুপারকে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে মামলার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুরুল আজিমকে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। একই ভাবে কল রিসিভ করেননি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রাজ্জাকও।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী রাত সাড়ে আটটার ট্রেনের ছাদে হেলে পড়া গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ১৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাটল ট্রেন ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রতিবাদে ফটক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের বেশকিছু চেয়ার ও পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়। পরবর্তীতে একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যান। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের তিনতলা বাসভবনে ভাঙচুর শুরু করেন। ফুলের টব থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসবাব, কক্ষ, জানালা ভেঙে ফেলে শিক্ষার্থীরা। এসময় আসবাব বের করে বাসভবনের উঠানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করার পরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরিবহন দপ্তরে মিছিল নিয়ে যান। পরে সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য রাখা অন্তত ৭০টি বাস ভাঙচুর করেন। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ক্লাবের কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেন। এরপর শাটল ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্যের বাসভবন, বাসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে শাটল ট্রেন গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদের আইসিইউতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে উপাচার্যের দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা করার কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।

সিএন/এমটি

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন