বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

টিআইসিতে পঞ্চসঙ্গী চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত

শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: ‘কথাশিল্পী শওকত ওসমান একজন সমাজ সচেতন বহুমাত্রিক লেখক এবং সমাজ বীক্ষণ সুতীক্ষ্ণ, তার সৃষ্টিতে যাপিত জীবনের ছবি ফুটে উঠেছে, তার রচিত শিশুতোষ গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি সাহসী প্রয়াস।’ শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে (টিআইসি) সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পঞ্চসঙ্গী চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার প্রদর্শনীতে সমাজবিজ্ঞাপনী অনুপম সেন এ কথা বলেন।

পঞ্চসঙ্গী চলচ্চিত্রের পরিচালক জাঁ নেসার ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠঅনে বক্তব্য দেন লেখক আবুল মোমেন, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর নাট্যজন শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অনুপম সেন আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি, জাঁ নেসার ওসমান পঞ্চসঙ্গী নির্মাণে সফল হয়েছেন ও ভবিষ্যতে আরো ভাল ছবি আমাদের উপহার দেবেন।  শওকত ওসমানের মত এত বড় মাপের একজন লেখকের কাহিনী নিয়ে ভাল মানের একটি চলচ্চিত্র আমাদের জ্ঞান ওশিক্ষা ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করবে। জাঁ নেসার ওসমান এ ছবিটি অত্যন্ত সুনিপুণতার সাথে নির্মাণ করেছে ও বাংলা চলচ্চিত্রে একটি নতুন দিক উন্মোচন করলেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে, আমরা এ চলচ্চিত্রের সার্বিক সফলতা কামনা করি।’

আবুল মোমেন বলেন, ‘শওকত ওসমান যখন চট্টগ্রামের কমার্স কলেজে বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন, তখন থেকে তার সাথে আমার ও চট্টগ্রামবাসীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। শওকত ওসমানের উপন্যাস নিয়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই কঠিন কাজ। একটি ভাল মানের শিশুতোষ চলচ্চিত্র সব বয়সী মানুষের চিত্ত জয় করতে পারে। আমরা জানি, গুপিগাইন বাঘাবাইন ও হিরক রাজার দেশ শিশুতোষ চলচ্চিত্র হলেও বড়দের কাছেও ছবি দুইটি ভীষণ জনপ্রিয় ছিল। জাঁ নেসার ওসমান যে ছবিটা আমাদের দেখালেন, আমরা আশান্বিত হই বাংলা চলচ্চিত্রের নবধারা যাত্রায়।’

আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, ‘শওকত ওসমানের সৃজন কর্মের মধ্যে ভাল চলচ্চিত্র নির্মাণ উপযোগী ভাল আল উপাদান রয়েছে। তার ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস নিয়ে আমিও নাটক বানিয়েছিলাম। তবে কতটুকু সফল হয়েছি জানি না। তার কাহিনী নিয়ে জাঁ নেসার ওসমান পঞ্চসঙ্গী চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সফল হয়েছেন। পঞ্চসঙ্গীর নির্মাণ কুশলতা আমাদের অভিভূত করেছে। সারা দেশে এ ছবি প্রদর্শন হলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সবাই উপকৃত হবে।’

রুশো মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে এক সময় আকাল চলেছে। কিন্তু এখন দর্শকরা অনেকটা সুস্থ চলচ্চিত্র পেয়ে সিনেমা হলমুখী, ভাল গল্প ও কন্টেন্ট নিয়ে যে কয়টি ভাল ছবি হচ্ছে, সেগুলো দর্শক টেনে নিয়েছে ও হলগুলোতে দর্শক উপচে পড়ছে। সাম্প্রতিককালে যে সব ছবি নির্মাণ হয়েছে, আমরা দেখেছি, সে সব ছবি দর্শক গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্র তার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে। শওকত ওসমানের নন্দিত কিশোর গল্প পঞ্চসঙ্গী অবলম্বনে জাঁ নেসার ওসমান সরকারি অনুদানে যে ছবি বানিয়েছে, তা এক কথায় অসাধারণ। আমি এ ছবির সাফল্য কামনা করি। ছবির গল্প, নির্মাণ ও কাহিনী সব কিছুর অসাধারণ সমন্বয় হয়েছে।’

জাঁ নেসার ওসমান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘সরকারি অনুদান নিয়ে পঞ্চসঙ্গী নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক হোঁচট খেতে হয়েছে। ছবিটি নির্মাণ করে দর্শকের সামনে পৌঁছে দেয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে। তবুও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি একটা ভাল চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছে হাজির করতে। কতটুকু পেরেছি তা দর্শক বিচার করবে। আশা করি, ছবিটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার সাথে যারা এ ছবি নির্মাণে সহযোগিতা করেছে, আমি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার প্রতি আমার অশেষ ধন্যবাদ। পঞ্চসঙ্গী নির্মাণে একটু সময় নিলেও চেষ্টা করেছি, কথাশিল্পী শওকত ওসমানের এ গল্প নিয়ে ভাল মানের একটি চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দেয়ার জন্য। আপনারা দর্শকরা সাথে থাকলেই আমাদের দীর্ঘ কষ্টের সফলতা বয়ে আনবে।’

শেখ শওকত  ইকবাল বলেন, ‘একটি ভাল মানের ছবি বানাতে হলে দক্ষ কারিগরি কুশলতার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। এখন ভাল মানের ছবির খুবই অভাব। ভাল মানের যে কয়টা ছবি হয়েছে, সে কয়টা ছবি দর্শক লুফে নিয়েছে। পঞ্চসঙ্গী ছবিটি দক্ষ কারিগরি কুশলতার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে, দর্শকরাও ছবিটা গ্রহণ করবে, লুফে নেবে। আমরা ছবির সফলতা কামনা করি। ছবির পরিচালককে ধন্যবাদ জানাই, মানসম্মত একটি ছবি উপহার দেয়ার জন্য।’

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন পাঁচজন শিশুর কাণ্ড-কারখানা নিয়ে পঞ্চসঙ্গীর নির্মাণ, পূর্ব-পাকিস্তানের পাঁচটি পথশিশু ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মেলামেশা করে ও তাদের মনে পাকিস্তানীদের প্রতি ধীরে ধীরে অসন্তোষ জমতে থাকে। গণঅভ্যুত্থানের সময় পাঁচটি শিশু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে ও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের  কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে করতে  শিশুরা মারা যায়। অমর কথাশিল্পী শওকত ওসমান রচিত কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্রে পঞ্চসঙ্গীর সাহায্যে অতীতের সাথে বর্তমানের একটি মেলবন্ধন করার চেষ্টা হয়েছে। হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে পঞ্চসঙ্গী পর পর চারটি প্রদর্শনী টিআইসির মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয়।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন