শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

শিরোনাম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সঠিক প্রয়োগ চায় যুক্তরাষ্ট্র

মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সঠিক প্রয়োগ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র) মাসুদ বিন মোমেনের সাথে বৈঠকে সোমবার (৮ আগস্ট) এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি মন্ত্রী মিশেল জে সিসন। পররাষ্ট্র সচিব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশও এ আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে চায়। এ জন্য আইনটির বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে ঢাকা ও আইনটির বিভিন্ন দুর্বলতা ঠিক করতে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞদেরও সহযোগিতা নিচ্ছে ঢাকা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই পক্ষের বৈঠকে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সনদ মেনে চলা, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের নির্বাচন, মানবাধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সেবা, করোনা পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও রোহিঙ্গা সঙ্কট গুরুত্ব পেয়েছে।

মিশেল জে সিসনের সাথে বৈঠক শেষে মানবাধিকার ইস্যুতে আলোচনা প্রসঙ্গে মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের লুক ফলসগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি ও তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথেও আলোচনা করেছে। আমরা চাই, এ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে প্রয়োগটা সেখানে যেন কোন ধরনের অসঙ্গতি না থাকে। সে ক্ষেত্রে কারো যেন ক্ষতির মুখে না পড়তে হয়। এ বিষয়ে আমরা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। আমরাও চেষ্টা করব, যদি কোন ধরনের অ্যাবিউজড থাকে, সেটাকে মিনিমাইজ করতে ও আমাদের রিভিউর কিছু কিছু কাজও হচ্ছে।’

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘তার সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি যখন জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলাম, তখন সিসনও সেখানে ছিলেন। তার সাথে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিগত দিনগুলোতে অনেক কাজ করেছি। তার সাথে বহু বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় বহুপক্ষীয় বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। সামনে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আছে, সেখানকার বিভিন্ন ইভেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কোন কোন ইস্যুতে সম্পর্ক আরো শক্তিশালি করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন- খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমান বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু, সেখানে আমাদের যে সাফল্যগুলো আছে, সেটা তারা প্রশংসা করেছে। আমরাও তুলে ধরেছি যে, করোনা ভাইরাসের মধ্যে আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোন সমস্যা হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ইউক্রেন সঙ্কটের ফলে সারা বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে ও আমদেরও কিছু সমস্যার মধ্যে পরতে হচ্ছে। এরপর তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছে। দেশটি এরই মধ্যে আবার এ ইস্যুতে ফিরে এসেছে। আজ তাদের সিনেট এ ইস্যুতে একটি বিল পাস করেছে, যা মধ্য দিয়ে এ ইস্যুতে তারা আরো সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ। এখানে দুই পক্ষ কীভাবে আরো সহযোগিতা বাড়াতে পারে, সে বিষয়ে আলাপ হয়েছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও আলাপ হয়েছে ও করোনার সময় দুই দেশের মধ্যে যে সহযোগিতা অব্যাহত ছিল, যেমন- পিপিই, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশই সরবরাহ করেছিল, তারা জানাল যে বাংলাদেশ থেকে তৈরি করা মাস্ক তারা স্টেট ডিপার্টমেন্টে ব্যবহার করেছে। অন্য দিকে, কোভেক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫ মিলিয়ন করোনার টিকা পেয়েছে। জনসংখ্যাবহুল আমাদের দেশে টিকা প্রয়োগের সফলতা দেখে তারা খুশি হয়েছে। তারা একটি ইভেন্ট করবে যে, এ করোনা মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য নিয়ে, সেখানেও তারা আমাদের পাশে পেতে চায়। আমরাও নীতিগতভাবে তাদের কথা দিয়েছি যে, তাদের এ উদ্যোগে আমরা থাকব। আমাদের যথেষ্ট যে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে, তা আমরা অন্য দেশের সাথেও শেয়ার করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, ইউএস এইডের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলাপ হয়েছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের রোল নিয়ে তারা প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে আফ্রিকা অঞ্চলের ঝুকিপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কাজ নিয়ে তারা প্রশংসা করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আমাদের হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত জানিয়েছি। তারা জানিয়েছে যে, ভাষানচরে তারা তাদের সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত করবে। আইসিজের আদালতে মামলাটি চালাতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছি। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আমরা রলেছি যে, এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী যদি রাখাইনে ফিরে যেতে পারে, তবে মূল সমস্যার সমাধান হবে।’

তাইওয়ান ইস্যুতে বাংলাদেশ যে এক চীন নীতিতে সমর্থন করেছে, তা নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘না, এ প্রসঙ্গ উঠায় নি। তবে তারা বলেছে যে, জাতিসংঘের সনদের মূল যে বিষয় আছে, তাতে যেন আমাদের সমর্থন থাকে। আমরাতো এটা আমাদের বিবৃতিতেও বলেছি। জাতিসংঘ সনদের মূল নীতির বিষয়ে আমাদের অঙ্গিকার আছে। আমরা চাই যে, বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা (ওয়ার্ল্ড অর্ডার) নিয়ে জাতিসংঘের যে মূলনীতি, তা যেন সকলেই মেনে চলে। আলাদা করে তাইওয়ান ইস্যুতে তারা কিছু বলে নি ও আমরাও বলিনি।’

র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে কী আলোচনা হয়েছে, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। সিসন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের। এ দুই বিভাগের সাথে সরাসরি কোন সংযোগ নাই। আমরা বলেছি যে, আমরা তাদের সিস্টেমের মাধ্যমেই কাজ করতে চাই ও এরই মধ্যে আমরা এ ইস্যুতে অনেক উন্নতি দেখেছি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ফার্মের সাথেও আমরা যোগাযোগ রক্ষা করছি। তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতা আমরা চেয়েছি।’

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন