সোমবার, ২০ মে ২০২৪

শিরোনাম

প্রকৌশল ডিপ্লোমা শিক্ষা কার্যক্রম ও সমমান প্রসঙ্গে

শুক্রবার, মে ১০, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্বে ইংরেজরা যখন সিদ্ধান্ত নিল যে ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা দিয়েই ইংরেজরা উপমহাদেশ ত্যাগ করবেন। তখন ঠিক তার পূর্বেই ভারতে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল এর মাধ্যমে এদেশে ইংরেজরা কারিগরি শিক্ষার গোড়াপত্তন শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে খুব দ্রুতই ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রূপান্তরিত হয়। একই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন পূর্ববঙ্গে আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর শিবপুর থেকে বিতাড়িত কিছুলোক আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে রূপান্তরিত করেন। ফলে ব্রিটিশদের চালুকৃত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। ১৯৪৯ এর ফেব্রুয়ারিতে Council of Technical Education in Pakistan এর রিপোর্ট মোতাবেক ১৯৫৫ সালে করাচী ও ঢাকায় দু’টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়। তৎকালীন সি. এল. আই. ডিপার্টমেন্টের অধীনে আমেরিকার ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থানুকূল্যে ১৯৫৫ সালের ৫ই জানুয়ারি স্থাপিত হয় বর্তমানের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, তখন যার নাম ছিল ইস্ট বেঙ্গল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ১৯৫৫ সালে মে মাসে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ইতিহাসের এই পথ পরিক্রমায় জনপ্রিয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রম ষড়যন্ত্রের মুখে পড়ে।

পাকিস্তান শাসন আমলের ২৩ বছর দেশের জনগণ শোষণ বঞ্চনা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হতে দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করার মুক্তির সংগ্রামে নিয়োজিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণীর কারিগরি আমলা চক্র ০৪ (চার) বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রমকে ০৩ (তিন) বছরে নামিয়ে এনে ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করতে থাকেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ধারা অবহত থাকে। তবে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পূর্বে ১৯৭০ সালে ০৮ই নভেম্বর এই ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তির জন্য ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কিন্তু ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এর প্রায় সকল নেতৃবৃন্দই দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে জনপ্রিয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রম ০৪ বছরে উন্নীত করে ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত করেন। কিন্তু এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ০৩ বছরের অনার্স কোর্সের পরিবর্ততে ০৪ বছর মেয়াদি অনার্স কোর্স পরিবর্তনের হওয়া বইতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ০২ বছরের ডিগ্রী পাস কোর্সের মেয়াদও ০৩ বছরে উন্নীত হয়। ফলে স্নাতক পাস কোর্সের ইয়ার অব ইস্কুলিং ১৪ বছরের পরিবর্ততে ১৫ বছরে উন্নীত হয়। এভাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স ১০+০৪= ১৪ বছর ইয়ার অব ইস্কুলিংয়ে থেকে যায়। আবারও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ বি-এসসি পাস কোর্সের মান থেকে পিছিয়ে পড়ে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য বর্তমানে প্রচলিত জনপ্রিয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রমকে পূর্ণবিন্যাস একান্ত জরুরী। বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান নওফেল মহোদয় বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রাককালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কার্যক্রমকে দুই পর্বে বিভক্ত করে পূবের ন্যায় বিএসসি পাস কোর্সের মর্যাদা দান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এজন্য প্রথম পর্বকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে এবং দ্বিতীয় পর্বকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রকৌশল অনুষদ গঠন করে বি-এসসি পাস কোর্সের মর্যাদা দান অপরিহার্য। এই ধরনের সফল উদ্যোগ গ্রহণ করে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল থেকে আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭৫ বছরের পথপরিক্রমায় ষড়যন্ত্রের সফল পরিসমাপ্তি সম্ভব হবে বলে মনে করি।

লেখক: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
মোবাইল: ০১৭১১-১৬৪৪৫০

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন