সোমবার, ২০ মে ২০২৪

শিরোনাম

ফ্লুভার ট্যাবলেটের কাজ, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

শনিবার, জুলাই ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক: ফ্লুনারিজিন হল সিননারিজিনের ডিফ্লুওরিনেটেড ডেরিভেটিভ। এটি একটি সিলেটিভ ক্যালসিয়াম চ্যানেল প্রতিপক্ষ ও এতে এইচওয়ান রিসেপ্টর ব্লকিং অ্যাকশন রয়েছে। ক্যালসিয়ামের অত্যধিক ট্রান্সমেমব্রেন ইনফ্লাক্স কমিয়ে ফ্লুনারিজাইন সেলুলার ক্যালসিয়াম ওভারলোড প্রতিরোধ করে। এটি স্বাভাবিক সেলুলার ক্যালসিয়াম হোমিওস্ট্যাসিসের সাথে হস্তক্ষেপ করে না। ফ্লুনারিজাইনের কিছু অ্যান্টিহিস্টামিনিক ও উপশমকারী বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।

মাইগ্রেন প্রতিরােধ, ভ্যাস্টিবুলার ভার্টিগাের উপসর্গীয় চিকিৎসা, পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিসসহ ভ্রমণজনিত অসুস্থতার ক্ষেত্রে ফ্লুভার ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য সাধারণণ চিসিকসরা প্রেসক্রাইব করে থাকেন।

ফ্লুভার খাওয়ার নিয়ম: মাইগ্রেন প্রতিরােধে: প্রারম্ভিক মাত্রা: ৬৫ বছরের নিম্নোর্ধ রােগীর ক্ষেত্রে দশ মিলিগ্রাম ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে রােগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ মিলিগ্রাম করে প্রতি রাতে। চিকিৎসা চলাকালীন বিষন্নতা, এক্সট্রা পিরামিডাল ও অন্য অনাকাঙ্খিত উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়ােগ বন্ধ করতে হবে। প্রয়ােগের দুই মাসের মধ্যে কোন উন্নতি না হলে রােগীকে প্রতিক্রিয়াহীন বিবেচিত করতে হবে ও প্রয়ােগ বন্ধ করতে হবে। যদি রােগী সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া দেখায় ও যদি অব্যহত চিকিৎসা প্রয়ােজন হয়, তবে পরপর পাঁচ দিন নির্ধারিত মাত্রা প্রয়ােগের পর পরপর দুই দিন ওষুধ সেবন বন্ধ রাখতে হবে। যদি এ চিকিৎসা কার্যকর হয় তারপরও ছয় মাস পর এটি বন্ধ করে দেয়া উচিত ও যদি রােগী ফের আক্রান্ত হয়, তখন প্রয়ােগ করা উচিত।
পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিস্: দশ মিলিগ্রাম করে দিনে দুই বার প্রয়ােজনে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিগ্রাম
মাথাঘােরা ও ভ্রমণজনিত অসুস্থতায়: ১০-২০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন (প্রাপ্ত বয়স্ক) ও পাঁচ মিলিগ্রাম প্রতি দিন ৪০ কেজির উর্ধ্বে শিশুদের ক্ষেত্রে। মৃগীজনিত খিচুনি: প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ১৫-২০ মিলি গ্রাম ও শিশুদের ক্ষেত্রে ৫-১০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন সংযােজিত চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বিষন্নতা এবং ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি ও অথবা মুখের রুচি বৃদ্ধি পেতে পারে। ফ্লুভার চিকিৎসায় কিছু ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। যেমন- বিষন্নতা (মহিলা রােগী যাদের পূর্ব বিষন্নতা রােগ আছে, তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ), ব্রাডিকাইনেসিয়া, রিজিডিটি, একাথিসিয়া, ওরােফেসিয়াল, ডিসকাইনেসিয়া, ট্রেমরের মত এক্সট্রা পিরামিডিয়াল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া; যাতে বয়স্ক রােগীরা অধিক ঝুঁকির সম্মুখীন। অনিয়মিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বুক জ্বালা, বমি বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, দুশ্চিন্তা, শুষ্কমুখ, পেশীতে ব্যথা, তুকে লালচে ভাব, গ্যাস্ট্রালজিয়া, গ্যালাকটোরিয়া লক্ষণীয়।

সতর্কতা: ফ্লুভার তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরি করতে পারে; যা যুগােপৎ এ্যালকোহল অথবা অন্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বিষন্নতা তৈরিকারী ওষুধ দ্বারা বৃদ্ধি পায়। রােগীকে যানবাহন চালানাে অথবা অন্য কোন বিপদজনক কাজ থেকে সতর্ক থাকা উচিত। ফুনারিজিন মাইগ্রেন দমন করে না। তাই মাইগ্রেন আক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি কাম্য নয়। বিশেষত বয়স্ক রােগীদের ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা বিষন্নতা, এক্সট্রা পিরামিডাল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অথবা পারকিনসনের লক্ষণ বৃদ্ধি করতে পারে।

গর্ভাবস্থাকালীন ব্যবহার: গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে ফ্লুভারের ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বৈপরীত্য: ফুনারিজিনের প্রতি অতি সংবেদনশীল রােগীদের ক্ষেত্রে প্রতি নির্দেশিত। যে সব রােগীদের পারকিনসন রােগের পূর্ব লক্ষণ ও বিষন্নতা জনিত অসুস্থতা অথবা অন্য এক্সট্রা পিরামিডাল অসুস্থতা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত।

অন্যান্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া: যে সব মহিলা জন্ম বিরতিকরণ ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ফ্লনারিজিন চিকিৎসার প্রথম দুই মাসের ভিতর গ্যালাকটোরিয়া দেখা দিতে পারে। যকৃতের উৎসেচক বৃদ্ধিকারী ওষুধ যেমন- কার্বামাজেপিন ও ফিনাইটয়েন ফ্লুভারের বিপাক বৃদ্ধি করতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রা নির্দেশিত।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন