বুধবার, ২২ মে ২০২৪

শিরোনাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশের দাবিতে নিউইয়র্কে সমাবেশ

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইউনাইটেড নেশনস সংলগ্ন ডাগ হেমারশোল্ড প্লাজায় বাংলাদেশে দ্রু সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার দাবিতে কেন্ডেল লাইট ভিজিল ও সমাবেশ হয়েছে। ‘ইউনাইটেড হিন্দুস অফ ইউএসএ’ ১৫ এ কর্মসূচি পালন করে।

সংগঠনের সভাপতি ভজন সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রামদাস ঘরামীর সঞ্চালনায় সমাবেশে নিউইয়র্ক শহরের অন্যান্য বাংলাদেশী সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যোগ দেন।

সমাবেশে ‘ইউনাইটেড হিন্দুস অফ ইউএসএ’ এর চেয়ারম্যান প্রভাত দাস ও ভজন সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্যান্য সেক্টরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনের প্রশংশা করে বলেন, ‘অত্যন্ত দু:খজনক বিষয় হল- দেশে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার অসহায় পৌনে দুই কোটি হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু নাগরিকের নিরাপত্তা ও সম-অধিকারের ব্যাপারে তিনি নির্বিকার। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তিনি আমলেই নিচ্ছেন না। তাই, এর প্রতি উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই সমাবেশ।’

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের আমলেও হাজার হাজার সংখ্যালঘু নাগরিক অত্যাচারিত হয়ে দেশেত্যাগে বাধ্য হবে- সেটা অনভিপ্রেত।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন শিতাংশু গুহ, দ্বিজেন ভটাচার্য, সুশীল সিনহা, ভবতোষ মিত্র, সনজিৎ কুমার ঘোষ, জয়দেব গাইন, উত্তম কুমার সাহা, রতন কুমার চক্রবর্তী, মুনমুন সাহা, রত্না ঘোষ, তপু সরকার, শংকর বিশ্বাস, পূজিতা দাশ, রত্নাবতী রায়, পলাশ ঘোষ, পরেশ ধর, দেবব্রত যোষ, সুমন সূত্রধর।

বক্তারা হতাশা ও ক্ষোভও প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে সবার দাবি চাওয়া মাত্র মেনে নেয়া হয়। কিন্ত, শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করার জন্য, কিংবা রমনা কলীবাড়িতে প্রবেশাধিকারে জন্য আমাদের যুগ যুগ ধরে আন্দেলন করতে হয়েছে। আর এখন ২০১৮ সালে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার জন্য ২০২৩ সালেও দেশে সংখ্যালঘুদের মিছিল-সমাবেশ-লমার্চ ও অনশন ধর্মাঘট করতে হচ্ছে, এখানে আমাদের সমাবেশ করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।’

তারা বলেন, ‘এক দিকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম আইন পাশ করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে। আর অন্য দিকে, সংখ্যালঘু নির্যাতকদের কোন দিনই বিচারের আওতায় না আনার ফলে সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘু নির্যাতনে উৎসাহ পেয়েছে।’

বক্তারা বলেন, ‘প্রচলিত আইনে সংখ্যালঘু নির্যাতকারীদের দমন করা সম্ভব নয় উপলব্ধি করেই প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। সেটা সরকার গঠন করার পরপরই সংসদের প্রথম সেশনে পাশ করে দিলে দেশে ২০২১ এর অক্টেবরের নারকীয় তাণ্ডব ঘটত না।’

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন