রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চবির মেডিকেল সেন্টার ঘেরাও

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মেডিকেল সেন্টারে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিক্ষোভ ও মেডিকেল সেন্টার ঘেরাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান ফটা আটকে রাখে। পরে প্রক্টরের আশ্বাস ও উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিকেল ৪টার দিকে মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মামুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর জের ধরে শনিবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টার ঘেরাও করে।

অভিযোগ পত্রে বলা হয়, চবি মেডিকেলের চিকিৎসার সার্বিকমান অস্বাভাবিকভাবে নিচে নামছে। সম্প্রতি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনকে ভুল ওষুধ প্রয়োগ করায় সে মুমূর্ষু অবস্থায় চমেকে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এর আগে, শ্রুতি চৌধুরী নামে সংস্কৃতি বিভাগের একজন ছাত্রী জ্বর নিয়ে এলে জ্বর মাপবার ডিজিটাল থার্মোমিটারটিও নষ্ট থাকায় তাকে ভুল ওষুধ দেওয়া হয়। কিছুদিন পূর্বে অর্থনীতি বিভাগের বেলায়েতের সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় চমেকে নেবার পর তার মৃত্যু হয়। এতে দায় এড়ানোর জন্য তার মদ্যপানে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করেন। তারও আগে মেহেদী হাসান নামে সমাজতত্ত্ব (২০১৬-১৭) এর ছাত্রকে ভুল চিকিৎসা দেবার পরে তিনি ভারত যেতে বাধ্য হন চিকিৎসা নিতে।

অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, চবি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসার মান খারাপ, ডাক্তাররা সময় মতো আসেন না এবং সহযোগিতপূর্ণ মনোভাব নেই, নাপা ও প্রাজল হচ্ছে সকল রোগের ওষুধ, বেসিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টেস্ট ইকুইপমেন্ট নেই, থাকলেও তা কাজ করে না, প্যাথলজি বিভাগের কোনো কাজ নেই, ডাক্তাররা রিপোর্ট দেখে রোগ বলতে পারেন না, ৬টি অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও মাত্র চলে দুইটি, আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়লেও কোনো মনোচিকিৎসক নেই,  ব্লাড টেস্ট, ইসিজি, এক্সরে পরীক্ষা করার কোনো সরাঞ্জাম নেই এবং ডাক্তার-কর্মচারীরা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। এসময় অভিযোগগুলো সমাধান করতে প্রশাসনকে দ্রুত এগিয়ে আশার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদের একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি সমাধান করতে আমরা আলোচনা করছি।’

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন