সোমবার, ২০ মে ২০২৪

শিরোনাম

মার্কিন বিলিয়নিয়ার লিওন ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে অটিস্টিক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

রবিবার, জুলাই ৩০, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: এক অটিস্টিক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ার লিওন ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী কিশোরীর পক্ষ থেকে ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা করেছে ভিগডর নামে একটি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

ফোর্বসের তথ্য মতে, লিওন ব্ল্যাক আরো কয়েকজন মিলে অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট নামে একটি কোম্পানি গড়ে তুলেছিলেন। ২০২১ সালে ওই কোম্পানি থেকে বিদায় নেন তিনি।

কোম্পানিতে বর্তমানে দশ দশমিক এক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০০২ সালে শিশু পাচারকারী ও যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাড়িতে ১৬ বছর বয়সী এক অটিস্টিক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিলেন লিওন ব্ল্যাক।

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে লিয়ন ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘২০০২ সালে এপস্টেইন ও তার দীর্ঘ দিনের বান্ধবী ও সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল ভুক্তভোগী জেন ডো নামের ওই কিশোরীকে চুরি করে নিয়ে আসেন।’

জেন ডোর বয়স এখন ৩০-এর কোঠায়। তিনি বলেছেন, ‘সেই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। তাকে লিওন ব্ল্যাকের কাছে দেয়ার পর লিওন তাকে এপস্টেইনের বাড়িতেই ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেন।’

মামলার নথি মতে, জেন ডো মোজাইক ডাউন সিন্ড্রোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মানসিক ও শারীরিক বিকাশগত সমস্যার কারণে ১৬ বছর বয়স হলেও তাকে ১২ বছরের কাছাকাছি বয়সের মনে হত।

মামলার নথিতে জেন ডোর ওপর যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘লিওন ব্ল্যাক এতটাই শক্ত করে তার হাত চেপে ধরত যে তার মনে হত- এ বুঝি হাত ভেঙে গেল। জেফ্রি এপস্টেইন জানতেন, জেন ডো কখনো কথার অবাধ্য হবে না।’

মামলার নথি মতে, শারীরিক বিকাশ সমস্যার কারণে তাকে ১২ বছরের মনে হত। তাকে এ বলে হুমকি দেয়া হত যে, অবাধ্য হলে সে ঝামেলায় পড়বে। এমন হুমকির মুখে তাকে যা-ই বলা হতো, সে তা-ই করত।’

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ‘এমনকি জেন ডো অসুস্থ হয়ে পড়লেও এপস্টেইন তাকে চিকিৎসক দেখাতে দিতেন না। চিকিৎসা দেয়ার বদলে এপস্টেইন বলতেন, গিসলেইনই তার সেবা করবেন।’

ভুক্তভোগী জেন জানিয়েছেন, সেই যৌন নির্যাতনের পর আজো তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভুগছেন।

এ দিকে, লিওন ব্ল্যাকের আইনজীবীরা বলছেন, তাদের মক্কেল লিওন ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পুরোটাই ‘সাজানো’। লিওন ব্ল্যাকের আইনজীবী সুসান এস্ট্রিচ বলেন, ‘অভিযোগের নামে ইচ্ছে করেই লিওনের বিরুদ্ধে এ উদ্দেশ্যমূলক ও মানহানিকর মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভিগডর।’

সুসান আরা বলেন, ‘যে ঘটনা এখন থেকে ২০ বছর আগে ঘটেছে, সেই ঘটনা নিয়ে এখন এমন অভিযোগ পুরোটাই সাজানো।’

লিওন ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তবে, সেসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন লিওন।

শিশুপাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৯ সালে গ্রেফতার হন জেফ্রি এপস্টেইন। ওই বছরের আগস্টে তিনি জেলেই আত্মহত্যা করেন। তার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী বিল গেটস, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন