শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

মৌসুমের শেষে ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল তারকা র‌্যাপিনো

সোমবার, জুলাই ১০, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

মিয়ামি, যুক্তরাষ্ট্র: মৌসুমের শেষে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী জাতীয় ফুটবল দলের তারকা মেগান র‌্যাপিনো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে তিনি এ বার্তা দিয়েছেন।

৩৮ বছর বয়সী র‌্যাপিনো লিখেছেন, ‘গভীর শান্তি ও কৃতজ্ঞতার সাথে জানাচ্ছি যে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সুন্দর এ খেলাটির এটাই আমার শেষ মৌসুম। কখনই কল্পনা করিনি যে, ফুটবল আমাকে এভাবে রূপ দিবে, আমার জীবনকে চিরতরে বদল দিবে।’

দুই বারের বিশ্বকাপ জয়ী এ তারকা আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্র দলে আছেন। বর্তমানে র‌্যাপিনো সিটলের ক্লাব ওএল রেইনের হয়ে ন্যাশনাল উইমেন’স সকার লিগে (এনডব্লিউএসএল) খেলছেন। এ লিগটি নভেম্বরে শেষ হবে।

দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ সময়ের মধ্যে খেলেছেন ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণ পদকও জয় করেছেন। ২০১৯ সালে জিতেছেন ফিফা বর্ষ সেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার। ২০১২ সালে তিনি সমকামী হিসেবে প্রকাশ্যে এসেছিলেন। এলজিবিটিকিউ+ অধিকার, জাতিগত বৈষম্য এবং লিঙ্গ ও বেতন সমতাসহ সামাজিক বিষয়গুলোতে তিনি হাই-প্রোফাইল প্রচারক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নারী দলের সম বেতনের ইস্যুতে তিনি সামনে থেকে সবাইকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২১ সালে শেষ পর্যন্ত আইন করে নারী দলকে পুরুষ দলের সমান বেতন দিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

র‌্যাপিনো বলেছেন, ‘অসাধারণ একটি ক্যারিয়ার শেষ করতে পেরে আমি  সন্তুষ্ট। এ খেলাটি আমাকে বিশ্বব্যপী পরিচয় এনে দিয়েছে। একইসাথে অসাধারণ কিছু মানুষের সাথে পরিচয়ের উপলক্ষ্য করে দিয়েছে। এতটা দীর্ঘ সময় খেলতে পারাটাও সৌভাগ্যের। যতটা সাফল্য এসেছে, তা কল্পনা করিনি। যাওয়ার আগে এমন একটি প্রজন্মকে সামনে রেখে, যাচ্ছি যারা ফুটবলে নিজেদের এতটা সাফল্য কখনই আশা করেনি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ, শেষ এনডব্লিউএসএল মৌসুম। নিজের দল থেকে অবসরে যাওয়াটাও বিশেষ কিছু।’

গেল বছর জুলাই মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন র‌্যাপিনোকে স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতি পদক দেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে র‌্যাপিনো এ পদক অর্জন করেছিলেন। এর আগে মাত্র পাঁচজন নারী ক্রীড়াবিদ ও কোচ এ পদক পেয়েছেন।

নিজ দেশের ঘরোয়া লিগেই ক্যারিয়ারের বেশীরভাগ সময় কাটিয়েছেন এ ক্যালিফোর্নিয়ান। তবে, ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ডব্লিউ-লিগে সিডনি এফসিতে খেলতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গিয়েছিলেন। দুই বছর পর ফরাসি ক্লাব লিঁওতে খেলার ডাক পান। তার দল ঐ সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিল। ২০১৯ ফ্রান্স বিশ্বকাপে ফাইনালে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে তিনি গোল করেছিলেন। ফাইনালে তিনি ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান। ঐ আসরে সর্বোচ্চ গোলের জন্য গোল্ডেন বুট ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য গোল্ডেন বল ট্রফি পান।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন