বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে শূকরের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তির মৃত্যু

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র: চিকিৎসাশাস্ত্রের লিখিত ইতিহাসে পৃথিবীর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছিলেন শূকরের হৃদযন্ত্র। তীব্র পরীক্ষামূলক সেই প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের ৪০ দিন পর মারা গেলেন লরেন্স ফসেট। যুক্তরাষ্ট্রের এই নাগরিকের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) তিনি মারা যান। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার শরীরে জিনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শূকরের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপিত করা হয়েছিল। গেল ২০ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারের পর প্রথম কিছু দিন তিনি সুস্থ থাকলেও সম্প্রতি হৃদযন্ত্রের কাজে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। অস্ত্রোপচারের পর দেড় মাস বা ছয় সপ্তাহ তিনি সুস্থ থাকলেও সোমবার (৩০ অক্টোবর) মারা যান।

অস্ত্রোপচারের পর ফসেটের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়েছিল। ফিজিক্যাল থেরাপির পাশাপাশি সময় কাটাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যদের সাথে। স্ত্রী অ্যানের সাথে তাসও খেলছিলেন। সম্প্রতি তার শরীরে প্রতিস্থাপিত হৃদযন্ত্র প্রাথমিকভাবে প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ পাঠাতে শুরু করে। এই প্রতিকূলতা চিরাচরিত মানবঅঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও থাকে। চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি মারা যান।

প্রবীণ নৌ সেনা ফসেট ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের সাবেক ল্যাব টেকনিশিয়ান। শারীরিক প্রতিকূলতার জন্য তার শরীরে চিরাচরিত হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়নি। হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশনের পূর্বেও হার্ট ফেলিওরের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল দুই সন্তানের বাবা ফসেটের ক্ষেত্রে।

অ্যান বলেন, ‘জানতাম আমাদের সাথে তিনি অল্প সময়ের জন্যই রয়েছেন। অন্যদের জন্য কিছু করার এটাই তার কাছে শেষ সুযোগ। উনি যে এত দিন জীবিত থাকবেন, সেটি নিজেও কোন দিন আশা করেননি।’

চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায়, মানব শরীরে প্রাণীদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন। প্রতিস্থাপনের জন্য মানবঅঙ্গের সংকট ক্রমাগত লেগেই থাকে। সেক্ষেত্রে জেনাট্রান্সপ্লান্টেশনকে বিকল্প পথ হিসেবে ভাবা হয়। কিন্তু, এই প্রক্রিয়া প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ। কারণ, মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি অন্য প্রাণীর প্রতিস্থাপিত অঙ্গকে প্রত্যাখ্যান করতে থাকে। বিজ্ঞানীদের আশা, এক দিন জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন