বুধবার, ২২ মে ২০২৪

শিরোনাম

যেমন খুশি তেমন দর!

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

সম্পাদকীয়: চলছে তো চলতেই আছে! থামার নাম নিশানা নেই। যেন এক গন্তব্যহীন পথে যাত্রা করেছে নিত্যপণ্যের দাম। প্রতিনিয়ত নিয়ম করে বাড়ছে এক বা একাধিক পণ্যের দাম। এতে যেমন অসহ্য হয়ে ওঠেছেন তেমনি জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে অপারগ হয়ে ওঠেছে সাধারণ জনগণ। এমনভাবে বাজার ছুঁটছে যেন, যেমন খুশি তেমন দর! যে যেভাবে পারছে পণ্যের দাম রাখছেন। নিজেদের খুশি মতো বাড়াচ্ছেন কমাচ্ছেন।

কখনও পেঁয়াজ, কখনও কাচামরিচ, কখনও আলু কিংবা ডিম আবার কখনও অন্য কোন পণ্য-রীতিমতো স্বর্ণের মতো হয়ে পড়ছে। এ যেন অভিভাবকহীন নিত্যপণ্যের বাজার। ইচ্ছামতো অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। লুটে নিচ্ছে মানুষের টাকা। সরকার কত রকম উদ্যোগ নিচ্ছে, কিন্তু কিছুই যেন কাজে আসছে না। সরকার ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেয়। একটি ডিম ১২ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩৫-৩৬ এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৪-৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কথা হচ্ছে ব্যবসায়ীরা কি মানছেন। উত্তর- না। সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বাজারে মিলছে না ডিম, আলু ও পেঁয়াজ। ব্যবসায়ীরা পণ্য তিনটি বিক্রি করছেন আগের মতোই ইচ্ছামতো দামে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে ও আড়তে না কমলে তাদের কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। ভোক্তারা বলছেন, সরকার দাম বেঁধে দিয়েই দায় সারছে। শুধু মুখে না বলে সরকারের উচিত প্রতিটি ধাপে পণ্যের মজুত পর্যালোচনা করা এবং বাজারে যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে মাঠে না নামালে অবস্থার পরিবর্তন হবে না। প্রায় ২ বছর ধরে বাজারের উচ্চমূল্য সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা। গত বছরের আগস্টে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছানোর পর গত ৬ মাসে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এর মধ্যেই দফায় দফায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এমন অবস্থার জন্য দায়ী করছে মানুষ। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন নয়। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। চলমান পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের নিত্যদিনের চাহিদায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

সবমিলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম মেটাতে ভোক্তার হাঁসফাঁস অবস্থা। তারা বলছেন, সব কিছুর দাম বাড়ায় সংসার খরচ বেড়ে গেছে। যে কারণে আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের পেছনে। চাহিদার সঙ্গে দাম যাতে না বাড়ে, সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো দৃশ্যত কিছু বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, এসব ব্যবস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। এটা স্পষ্ট যে, করোনা-দুর্যোগে অনেকের আয়-রোজগার কমে গেছে, অনেকেই হয়েছেন কর্মহীন। আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া এখন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০-১৫ টাকা বেশিতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭৫-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৪৮ টাকার ডিমের হালি পাইকারিতে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মহল্লার দোকানগুলোতে ৫ টাকা বাড়তিতে প্রতি হালি ডিম ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। বাস্তব সত্য হচ্ছে, বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পরিপূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিপণন, বাজার মনিটরিং ইত্যাদি যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, এগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পণ্য পরিবহন নির্বিঘœ রাখতে বিশেষ করে কৃষিপণ্যের সরবরাহে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি হতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এর বাইরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা এটাও মনে করি, কেন্দ্র থেকে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষেত্র পর্যন্ত ব্যবস্থাপনাও নজরদারির আওতায় আনা জরুরি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন