শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

শিরোনাম

শেখ হাসিনা জাতিসংঘে অভাবনীয় উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার বিষয়ে আলোকপাত করবেন

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩

প্রিন্ট করুন

জাতিসংঘের চলতি ৭৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান যেমন সুদৃঢ় করবে, তেমনি বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এমএ মুহিত।

বরাবরের মত এবারো বাংলায় প্রদত্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য ইত্যাদি বিষয়ের উপর আলোকপাত করবেন। পাশাপাশি, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, নিরাপদ অভিবাসন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত বিষয় তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ছয় দিনের সফরে ( রোববার ১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত মুহিত আরো জানান, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি। বিশেষ করে, যুদ্ধ-বিগ্রহ পরিহার করে চলমান খাদ্য ও জ্বালানি সংকট নিরসন, আর্থিক অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা, বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিকতাবাদ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট  লক্ষ্যগুলো অর্জন প্রভৃতি বিষয়ে সাধারণ অধিবেশনে গুরুত্বের সাথে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও, অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং এর স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের বিষয়টিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হবে, যা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।  

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে শুরু হওয়া সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের প্রায় দেড় শতাধিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান যোগ দেবেন বলে এমএ মুহিত উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিশনের ডেপুটি প্রধান তৌফিক ইসলাম শাতিল উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার সফরসাথী হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমএ মুহিত উল্লেখ করেন, সফরসাথীর মধ্যে বিশিষ্ট নাগরিক, সম্পাদক, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে, ব্যবসায়ীদের বড় কোন টিম সফরসাথীর তালিকায় নেই।

মোহিত জানান, এ বছরের থিম হচ্ছে ‘আস্থা পুনর্গঠন এবং বিশ্বব্যাপী সংহতি পুনরুজ্জীবিত করা: ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের টার্গেট পূরণকল্পে সকলের জন্যে শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও স্থায়িত্ব নিশ্চিতের পথ সুগম করা’। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠন ও বিশ্বব্যাপী সংহতি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয় এবারের অধিবেশনে বিশেষ গুরত্ব পাবে।

তিনি জানান, এছাড়া, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো শেখ হাসিনা সাধারণ পরিষদের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। জাতিসংঘের সর্বশেষ শিডিউল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আগামি শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের আগেই বক্তব্য দিতে পারেন।
এছাড়াও, শেখ হাসিনা জাতিসঘের পাঁচটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন। প্রথমত, আগামি ১৮-১৯ সেপ্টেম্বন এসডিজি সামিট অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনের অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতিসংঘ উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যগুলো অর্জনের অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতাগুলো এবং এই  প্রতিবন্ধকতাগুলো উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে কিভাবে লক্ষ্যগুলো অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই সামিটের অধীনে বিভিন্ন থিমের ওপর চারটা লিডার্স ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) লিডাস ডায়ালগে বক্তব্য দেবেন। এর বিষয় হল ‘এসডিজি অর্জনের জন্যে সমন্বিত নীতি ও সরকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা’।
দ্বিতীয়ত, আগামী বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) হাই-লেভেল মিটিং অন প্যান্ডামিক প্রিভেনশন, প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনা এই সভার প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন। তৃতীয়ত, বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) অ্যানুয়াল মিটিং অফ দ্যা ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম ফর ওমেন লিডার্ড অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাটি প্রতি বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি বিশ্বের নারী নেতীদের সম্মানে আহবান করে থাকেন ও প্রধানমন্ত্রী এতে অংশ নেবেন। চতুর্থ, বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের মহাসচিবের আহবানে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ক্লাইমেট অ্যাম্বিশান সামিট অনুষ্ঠিত হবে। এই সামিটের হাই লেভেল থিমাটিক সেশন ডেলিভারিং ক্লােইমেট জাস্টিস: একসেরেটিং অ্যাম্বিশান অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেইশন অন এডাপ্টিং অ্যান্ড ওয়ার্নি ফর অল -এ বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। পঞ্চমত, বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) হাই-লেভেল ইভেন্ট অন ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজঅনুষ্ঠিত হবে। এই সভার প্লেনারি সেশনেও বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্যবান্ধব নীতি ও জনগনের স্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন তুলে ধরবেন শেখ হাসিনা।

এই পাঁচটি সভার পাশাপাশি শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানদের আহবানে চারটি উচ্চ-সভায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে জলবায়ু সুংক্রান্ত দুটি বৈঠক রয়েছে। সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সভা আহবান করে থাকে। প্রতি বছরের মত বাংলাদেশও এ বছর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুটি হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট আয়োজন করেছে এবং এই ইভেন্ট দুইটিতে শেখ হাসিনা থাকবেন। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভাটির সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে কানাডা, গাম্বিয়া, মালয়েশিয়া, তুর্কি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যার ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করেছে। কিন্তু, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে গৃহীত পদক্ষেপ আশানুরূপ কোন সমাধান দিতে পারেনি। বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন এক নম্বর অগ্রাধিকার ইস্যু। এই বক্তব্যই ফের বিশ্ববাসীর কাছে পৌছে দিতে এই সাইড ইভেন্ট আয়োজন করা হয়েছে।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন