বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

শিরোনাম

হামাসের যুদ্ধবিরতির দাবি প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৪

প্রিন্ট করুন

তেল আবিব, ইসরায়েল: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হামাসের যুদ্ধবিরতির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ও গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহরে সেনাদের অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে দশ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে বক্তৃতায় বলেছেন, ‘তিনি এখনো ‘চুক্তিতে পৌঁছানোর জায়গা’ দেখেছেন ও তিনি ইসরায়েলি নেতাকে এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন, এতে ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি’ পাবে।’ নেতানিয়াহু টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘তিনি রাফাতে সেনাদের ‘অভিযানের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন ও বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ মাত্র কয়েক মাস দূরে।’

তবে, তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির জন্য হামাসের ‘অদ্ভুত দাবি’ মেনে নেয়া জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দিকে পরিচালিত করবে না বরং ‘এটি কেবল আরেকটি গণহত্যাকে আমন্ত্রণ জানাবে’।’

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর ‘আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জোর দেয়া সম্পূণরূপে নিশ্চিত করে যে, এর লক্ষ্য ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো।’

হামাসের কর্মকর্তা ওসামা হামদান, ‘সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার’ ও ইসরায়েলি ‘এ সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে বিশ্বাসঘাতকতা’ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গেল নভেম্বরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের মধ্যে একজন ইসরায়েলের নেতার উপর চাপ সৃষ্টি করেন।

নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে তেল আবিবে সংবাদ সম্মেলনে আদিনা মোশে বলেন, ‘সবকিছুই আপনার হাতে।’

তিনি বলেছিলেন, ‘আপনিই একজন ও আমি খুব ভয় পাচ্ছি এবং খুব উদ্বিগ্ন যে, আপনি যদি হামাসকে ধ্বংস করার মনমানসিকতা পরিহার না করেন, তাহলে মুক্তির জন্য কোন জিম্মি অবশিষ্ট থাকবে না।’

এর পূর্বে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার পঞ্চম মধ্যপ্রাচ্য সফরে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির জন্য আশা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, ‘বহু কাজ করতে হবে।’

‘তবে আমরা সেই কাজটি করার দিকে খুব বেশি মনোযোগী ও আশা করছি যে, নভেম্বরে এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির পর বাধাপ্রাপ্ত জিম্মিদের মুক্তি ফের শুরু করতে সক্ষম হব।’ জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করার পর ব্লিঙ্কেন এ কথা বলেছিলেন।

মধ্যস্থতাকারী মিশরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকায় শান্তি’ অর্জনের লক্ষ্যে ‘নতুন দফা আলোচনা’ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) কায়রোতে শুরু হবে।

ব্যাপারটি সম্পর্কে হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামাস ‘যুদ্ধবিরতি, যুদ্ধের অবসান ও বন্দী বিনিময় চুক্তি’র লক্ষ্য নিয়ে কায়রোতে আলোচনায় সম্মত হয়েছে।

গেল সপ্তাহে হামাসের একটি সূত্র বলেছে, প্রস্তাাবিত নয়া যুদ্ধবিরতিতে ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বিরতি ও জিম্মি-বন্দি বিনিময়ের পাশাপাশি গাজার জন্য আরো সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারপর থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ব্লিঙ্কেন গাজায় আরো সাহায্যের জন্য নয়া করে আবেদন জানিয়েছেন। সেখানে ২৪ লাখ মানুষ কঠোর অবরোধের মধ্যে এবং বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, জ্বালানী ও চিকিৎসা সরবরাহের তীব্র সংকটের সাথে যুদ্ধ করছে।

ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করার জন্য আমাদের সবারই বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

ব্লিঙ্কেন অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে দেখা করেছেন।

আপাতত, হামাস-শাসিত গাজায় বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অবিচ্ছিন্ন যুদ্ধ পঞ্চম মাসে ঢুকেছে। যেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বলেছে, ‘গেল ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ও সাংবাদিকরা দক্ষিণের শহরগুলোতে আরো ভারী বোমা হামলার সংবাদ দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের সৈন্যরা অধিকৃত উত্তর পশ্চিম তীরের তুলকারেমের কাছে নুর শামস ক্যাম্পে এক ব্যক্তির বাড়ি ঘেরাও করে দুই ফিলিস্তিনিকে খুন করেছে।

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘গাজার অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যার আশ্রয় নেয়া রাফাতে ইসরায়েলের বাহিনীর অভিযানের সংবাদে তিনি ‘শঙ্কিত’ হয়েছেন।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েল হামাসকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজায় নির্বিচার বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণ শুরু করে। এতে কমপক্ষে ২৭ হাজার ৭০৮ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। যাদের অধিকাংশই মহিলা ও শিশু।

সিএন/আলী

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন