শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

অর্থ আত্মসাৎসহ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুলের নানা দুর্নীতি

শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২

প্রিন্ট করুন

নিউইয়র্ক: আমেরিকায় প্রবাসী সিলেট বিভাগবাসী তথা জালালাবাদবাসীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি বদরুল হোসেন খান তার সময়ের চার লাখ তিন হাজার ৮৭৩ ডলারের কোন হিসেব দেননি। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছর ধরে এসোসিয়েশনের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব জালালাবাদবাসী জানেন না। সংগঠনের নেই কোন নথিপত্র। অথচ সেই বদরুল হোসেন খান ফের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন, এসোসিয়েশনের ভবন কেনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যা প্রতারণার শামিল।

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে মঙ্গলবার (২৪ মে) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলেছে সংগঠনের আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মাসুদুল হক ছানুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। খবর ইউএনএর।

বলে রাখা ভাল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের নির্বাচন আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মাসুদুল হক ছানুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হুমায়ুন আহমদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের গত দুই বারের সভাপতি বদরুল খানের গত ছয় বছরের কার্যকালীন এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্রের ধারা উপধারাকে অনুসরণ না করে যে সব আর্থিক বিষয়ে প্রতিবেদন জালালাবাদবাসীর কাছে পেশ করেছে, তা সঠিক নয়।

আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে- ২০১৩ সালের কার্যকরি পরিষদের কাছ থেকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৭৩ ডলার; সাবেক সভাপতি জন উদ্দিনের কাছ থেকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫০০ ডলার; সাবেক নির্বাচন কমিশনের সদস্য আওতাদ চৌধুরীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তিন হাজার ডলার; তিনি ছয় বছর সভাপতি থাকাকালীন ফিলাডেলফিয়ার বাড়ী থেকে ভাড়া বাবদ পেয়েছেন ৮৮ হাজার ২০০ ডলার; জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কবর বিক্রী বাবদ আয় ৫২ হাজার ডলার; ২০০৯ সালের ফিলাডেলফিয়ায় এসোসিয়েশনের নামে বাড়ি কেনা হয় এক লাখ ৮২ হাজার ডলার।

কিন্তু তিনি নয় বছর পর ২০১৮ সালে ওই বাড়ী বিক্রি করেছেন এক লাখ ৮০ হাজার ডলারে (বর্তমানে এ বাড়ির দাম তিন লাখ ৭৫ হাজার ডলার); ছয় বছরের ১১৩ আজীবন সদস্য বাবদ প্রাপ্ত ২২ হাজার ৬০০ ডলার; সমিতির ঘর কেনার জন্য ফান্ড রাইজিং ডিনার থেকে প্রাপ্ত অনুদান ৬০ হাজার ডলার; জালালাবাদ এসোসিয়েশনের গত দুই বারের নির্বাচনের নমিনেশন ফি ও নমিনেশন প্যাকেজ বিক্রি বাবদ আয় ৮৫ হাজার ৮০০ ডলার ও জালালাবাদ এসোসিয়েশনের গত দুই বারের নির্বাচনের জন্য সাধারণ সদস্য নবায়ন বাবদ আয় ৬০ হাজার ডলার।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার গত ছয় বছরের মোট আয় ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৮৭৩ ডলার। কিন্তু নির্বাচনে ফের সভাপতি পদপ্রাথী বদরুল খান বর্তমান কমিটির কাছে দুইটি চেকের মাধ্যমে দিয়েছেন দুই লাখ ৪৩ হাজার ডলার। অবশিষ্ট মোট অর্থ চার লাখ তিন হাজার ৮৭৩ ডলারের কোন হদিস নেই।’

তিনি বলেন, ‘এ চার লাখ তিন হাজার ৮৭৩ ডলার কোথায় গেল জালালাবাদবাসী জানতে চায়?

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘বদরুল খান বর্তমান কমিটির কাছে গত দিনের কোন নতিপত্র (রেজুলেশন বুক, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক চেক), ছয় বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে যান নি। জালালাবাদ মহা সম্মেলনের আয় বাবদ প্রাপ্ত আনুদান দশ হাজার ডলারের সঠিক তথ্যও জালালাবাদবাসী জানতে চায়?’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অনেক জালালাবাদবাসীকে আজীবন সদস্য বানানোর জন্য জনপ্রতি ২০০ ডলার করে নিয়েও আজীবন সদস্য করা হয়নি। বদরুল খান এবার বিনা অর্থে নিজের অপকর্মকে ঢাকার জন্য ৬/৭ জন্য আজীবন সদস্য নবায়ন করেছেন বর্তমান কমিটির কাছে, যারা কিনা তার সময়কালীন সদস্য হয়েছিলেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মাসুদুল হক ছানু বলেন, ‘এক তরফা নির্বাচন আর অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি ও নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে জালালাবাদবাসীদের নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলছে না ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্যানেল ভিত্তিক নির্বাচনেরও কোন সুযোগ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সাবু, প্রধান সমন্বয়কারী মুহিদুল ইসলাম চৌধুরী (লোপা) ও দরুদ মিয়া রনেল।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন