শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

অস্থির চালের বাজার, অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সোমবার, মে ৩০, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : দেশে এখন বোরোর ভরা মৌসুম। সারা বছরের চাহিদার সিংহভাগই চালই আসে বোরো থেকে। অথচ বোরোর এই সময়েই অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। এক মাসের ব্যবধানে মান ভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ভরা মৌসুমেও বাজারে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রিসভায়। চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে অ্যাকশনে যেতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এনিয়ে আলোচনার পর কেউ চাল মজুদ করে বাজার অস্থির করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সচিব বলেন, কিছুদিন আগে ভোজ্যতেলের বিপরীতে যেভাবে ড্রাইভ দেওয়া হল, ওই রকম ড্রাইভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদি কেউ নিয়ম-নীতি ভেঙে আনঅথরাইজড চালের ব্যবসা করে বা মজুদ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে চাল ও তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বৈঠকে আলোচ্যসূচির বাইরে আজকে মূলত মার্কেট মেকানিজম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে চাল ও তেল নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। এই ভরা মৌসুমে চালের দাম কেন বেশি? গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং কিছু সাজেশন ছিলো, এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

চালের বাজারে অস্থিরতা পেছনে কারসাজির সন্দেহের বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, কেন চালের দাম বাড়বে? তাই কোথায় কে চাল মজুদ করে এবং আমাদের কিছু ইনফরমেশন আছে যে, আমি যে ইন্ডাস্ট্রিটা করব বা যে প্রোডাকশনে যাব, আমার তো মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন আছে। 

মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে তো বলা আছে, আমি কী করতে পারব। আমাদের মনে হচ্ছে, এমন হতে পারে, কেউ কেউ হয়ত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ভেঙে চালের ব্যবসায় নেমে গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধরুন আমার হাজার-হাজার কোটি টাকা আছে। আমি মার্কেটে নেমে ধান আর চাল কিনে ফেললাম, স্টক করলাম। তো এগুলো কতদিন আমি রাখতে পারব? এই বিষয়গুলো সুপারভিশন করে দ্রুত নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী, সচিব, খাদ্যমন্ত্রী, সচিব আর কৃষি সচিবকে বসে দ্রুত এ বিষয়টি দেখতে এবং মার্কেট সার্ভে করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, খাদ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব ও কৃষি সচিবকে দ্রুত বসে মার্কেট সার্ভে করে এই বিষয়গুলো দেখতে বলা হয়েছে। বেশিরভাগ দেশেই মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন স্পেসিফিক একটা বিষয়ের উপর থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে দেখা যাচ্ছে, একটা মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অনেকগুলো ঢুকিয়ে দেয়। তাই এটাও শক্তভাবে দেখতে বলা হয়েছে। কার মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনে কী আছে? সে কী পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করবে এবং এর বাইরে যাচ্ছে কি না? 

প্রয়োজন হলে তাকে সতর্ক করা যেতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, তারা অন্যান্য দেশ থেকে দ্রুত তথ্যটা নেবে, তারা যে মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন দেয়, সেটা আইটেম বা বিজনেস অরিয়েন্টেড কি না? সেই বিজনেসের বাইরে সে অন্যটা করতে পারে কি না? উন্নত দেশে একটির মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন দিয়ে আরেক ব্যবসা করা যায় না। এটা হয়ত তারা জানেও না, সেটাও হতে পারে।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন