ইফতেখার ইসলাম: একটা সময় ছিলো যখন কেউ মেট্রিক বা এসএসসি পাস করলে চারদিকে হইহুল্লোড় পড়ে যেতো। আশেপাশের গ্রাম থেকে মানুষের সমাগম হতো তাকে দেখতে। প্রতিবেশিদের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিরাট আয়োজনে উদযাপন হতো সেই পাস। সেসময় এক অন্য রকম কদর ছিলো উত্তীর্ণ পরিক্ষার্থীদের।
তবে সময়ের ব্যবধানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। বেড়েছে শিক্ষার হার। মানুষ শিক্ষার মর্ম অনুধাবন করে এগিয়েছে সেই পথে। আর শিক্ষিতদের হার বাড়ার সাথে সাথে উদযাপনের সেই আনন্দ কিছুটা কমে আসলেও একদম বিবর্ণ হয়ে পড়েনি; এখন যেমনটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷
২০১৯ সালের ডিসেম্বর বিশ্বে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায়ও নেমে আসে ধস। তবে শিক্ষা কার্যক্রম বেগবান রাখতে বিভিন্ন শ্রেণীর পরিক্ষা বাতিল করে অটোপাসের সিদ্ধান্ত দেয় কর্তৃপক্ষ৷ তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে অটোপাস দেওয়া হয়৷ তবে চলতি বছর সেই অটোপাস থেকে বেরিয়ে আসলেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে৷ আর এতে করে কমে গেছে পরীক্ষা ও ফলাফলের আগের সেই আমেজ।
বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে মোট ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৬ জন। যা শতকরা হিসেবে ৯৩ শতাংশের বেশি।
এইদিকে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় শিক্ষার্থীর মধ্যে নেই কোন বাড়তি আমেজ। আর এর প্রভাব পড়েছে মিষ্টির দোকানগুলোতে। সারাবছর বেচাকেনা কম হলেও দোকানিরা অপেক্ষা করেন বিশেষ দিনগুলোর দিকে। তারমধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময়টা থাকে বেচাকেনার উৎকৃষ্ট সময়। তবে আগের সেই আমেজ না থাকায় তেমন ব্যস্ততা নেই দোকানিদের। আর এতে হতাশাও প্রকাশ করেছেন তারা।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বেশ কিছু দোকান ঘুরে দেখা গিয়েছে এমন দৃশ্য। আর দোকানিরাও জানিয়েছেন সেই দূর্দশার কথা। উজ্জ্বল কুমার দে নামে একে উপজেলা সদরের এক মিষ্টি দোকানি বলেন, গত বছর পরীক্ষার ফলাফলের সময় একেবারেই গ্রাহক ছিলো না। এবার আগের তুলনায় ভালো হলেও স্বাভাবিক নয়। করোনার আগে মানুষ যেভাবে মিষ্টির দোকানে ভিড় জমাতো এখন সেরকম মানুষ নেই।
এইদিকে সদ্য মাধ্যমিক পাস করা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জয়নাল আবেদীর বলেন, গতবছর আমার বড় ছেলে এসএসসি পাস করেছে এবার মেয়ে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। বাবা হিসেবে দুইজনের জন্য গর্ব হয়। তবে করোনার মধ্যে পরীক্ষা হওয়া ছেলে মেয়েদের মধ্যে আগের মতো সেই আনন্দ দেখছি না। নানান মানুষ নানান কথা বলে। আর এর জন্য মানুষদের মিষ্টিমুখ করানোর আগ্রহটা কমে গেছে।
প্রসঙ্গত, এবার ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষার্থী। দিনাজপুর বোর্ডে পাস করেছে ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৫৭৮ জন।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৯২ জন। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৯৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৬১ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী।
রাজশাহীতে ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ, কুমিল্লায় ৯৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৯১ দশমিক ১২ শতাংশ ও সিলেট বোর্ডে ৯৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৯৩ দশমিক ২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১১৩ জন। এছাড়া কারিগরিতে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং সেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ জন পরীক্ষার্থী।
আইআই/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন