চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান কেমন হতে পারে, সেখানে বিদেশি কূটনীতিকদের ভূমিকা কী হতে পারে তা জানা-বোঝার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন সুশীল সমাজের পাচজন প্রতিনিধি। মার্কিন রাষ্ট্রতদূতের বারিধারার বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ওই বৈঠকের শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন। কিছু সময় পরে তাদের সঙ্গে ওই বৈঠকে যোগ দেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ব্রতীর শারমিন সোনিয়া মুর্শিদ। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ছাড়াও ডেপুটি রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে আমেরিকা-ইউরোপের ব্যাপক আগ্রহ আছে। তারা চায় যে আসন্ন নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং ভোটাররা যাতে তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশের উন্নতি হোক। এই জন্য এই বিষয়ে ধারণা নিতে এবং করণীয় ঠিক করতে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এমন ধরনের ধারাবাহিক বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েছে।
যার অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মার্কিণ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় যে আসন্ন নির্বাচন কেমন হবে বলে তারা (আমন্ত্রিত পাচজন) মনে করেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ কেমন হতে পারে। ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশি কূটনীতিকরা কী পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এসব প্রশ্নের জবাবে আমন্ত্রিতরা জানান যে, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কমে আসছে, ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সমালোচনা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ থাকতে হবে। এক সময়ে বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত কিন্তু এই সময়ে এসে সেই পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র নাগরিক যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে এখন ভাটা পড়েছে। সেই জায়গাটা নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীনভাবে ভোট অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ এবং কথা বলার স্বাধীনতা থাকতে হবে। ওই বৈঠকে আমন্ত্রিরা আরো বলেন, ভালো ভোট অনুষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির বিকল্প নাই। কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানাচ্ছে যে সামনে আমেরিকা-ইউরোপের কূটনীতিকরা ভোট অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র নির্বাচন কমিশনসহ ভোট সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন।
এফআইটি/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন