ঢাকা: অবশেষে আতঙ্ক আর উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের অলভিয়া সমুদ্রবন্দরে ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলায় আটকে পড়া ২৮ বাংলাদেশি নাবিক। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) রাতে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো একটি দেশ হয়ে তারা বাংলাদেশে ফিরবেন। বুধবার দুপুরে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য ইতোমধ্যে প্লেনের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ হয়ে তারা আজ রাতে দেশের উদ্দেশ্য রওনা হবেন। কাল বুধবার দেশে পৌঁছাতে পারেন’
বিএমএমওএ সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আটকেপড়া নাবিকরা রোমানিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এছাড়া হামলায় নিহত জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার ২৮ নাবিককে দেশে ফিরলেও আনা হাদিসুর রহমানের মৃতদেহ এখনই দেশে আনা হচ্ছে না। তার মৃতদেহ ইউক্রেনে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছে। পরে তার মৃতদেহ দেশে আনা হবে।’
জানা গেছে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) মালিকানাধীন বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি ডেনিশ কোম্পানি ডেল্টা করপোরেশনের অধীনে ভাড়ায় চলছিল। ভারতের মুম্বাই থেকে তুরস্ক হয়ে জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে সিমেন্ট ক্লে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল জাহাজটির।
তবে এর মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে অলভিয়া সমুদ্রবন্দরে ২৯ জন নাবিক নিয়ে জাহাজটি আটকে পড়ে। গত ২ মার্চ জাহাজটিতে রকেট হামলা হয়। এতে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান মারা যান। পরদিন ৩ মার্চ অক্ষত অবস্থায় জাহাজটি থেকে ২৮ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদ বাংকারে রাখা হয়।
পরে হাদিসুরের মরদেহ ও বেঁচে যাওয়া ২৮ নাবিককে একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করে মালদোভাতে নেওয়া হয়। ৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে তারা ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে মালদোভা হয়ে রোমানিয়া পৌঁছান।
আইআই/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন