চলমান ডেস্ক: ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকেও ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা এই বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি। বৈঠকের পর ইউক্রেন জানিয়েছে, আলোচনায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি।
রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযান পরিকল্পনা মতোই চলছে। ইউক্রেনে রুশ হামলার ১৫ তম দিনে বৃহস্পতিবার তুরস্কের আঙ্কারায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এটিই প্রথম বৈঠক।
রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার তুরস্কের আন্তালায়া শহরে পৌঁছান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা।
এর আগে বুধবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকেও তুরস্কে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনে রাশিয়া অভিযান শুরু করার পর এই প্রথম তিন পক্ষের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক হয়।
বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, ইউক্রেন ইস্যুতে বিপজ্জনক আচরণ’ করছে পশ্চিমা দেশগুলো। সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকে চলমান সংঘাতের মধ্যে মানবিক ইস্যুতে কাজ করতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। বৈঠকের পর এমন কথা জানালেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা। তিনি বলেন, ইউক্রেন ভূখণ্ডে মানব্কি সংকট উত্তরণে কাজ করে যেতে সম্মত হয়েছে মস্কো-কিয়েভ।
সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য বৈঠকের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসান, দেশটির মানুষের দুর্দশা এবং রাশিয়ার দখলদারিত্ব থেকে আমাদের ভূখণ্ড রক্ষায় এই আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত আছি। এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বৈঠক। বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা।
শিশু হাসপাতালে হামলা যুদ্ধাপরাধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের মারিয়োপোল শহরের একটি ম্যাটারনিটি ও শিশু হাসপাতালে রুশ বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। রাজধানী কিয়েভ থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, এটা কোন ধরনের রাশিয়ান ফেডারেশন, যারা হাসপাতাল এবং ম্যাটারনিটি হাসপাতাল ভয় পায় আর সেগুলো ধ্বংস করে? ম্যাটারনিটি হাসপাতালের কেউ কি রুশ-ভাষীদের নিপীড়ন করেছে? এটা কী? তিনি বলেন, মাতৃসদন হাসপাতালের কেউ কি রুশ ভাষাভাষীদের ওপর অত্যাচার করেছিল? আজ আমাদের সবার একত্রিত হয়ে রাশিয়ার এই যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানাতে হবে। হাসপাতালে আক্রমণ ‘ইউক্রেনে গণহত্যার চূড়ান্ত প্রমাণ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওই হাসপাতালে রুশ সেনারা বোমা হামলা চালিয়েছে। শহরটির পৌর কর্তৃপক্ষ এক ফেসবুক পোস্টে এ দাবি করে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এক বিবৃতিতে মারিউপোল কাউন্সিলের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, রুশ বাহিনী শিশু হাসপাতালের ওপর কয়েকটি বোমা ফেলেছে। এতে ওই হাসপাতালের শিশু ও প্রসূতি বিভাগসহ হাসপাতালটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। তবে আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালের ওপর রুশ বোমাবর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, নৃশংসতা-ধ্বংসাবশেষের নিচে শিশুরা চাপা পড়েছে। তিনি অবিলম্বে ইউক্রেনের আকাশে নো ফ্লাই জোন কার্যকরেরও আহ্বান জানান।
নিজেদের ভুল রাশিয়ার উপর চাপাচ্ছে পশ্চিমারা: পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, পশ্চিমারা তাদের নিজেদের ভুলের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার তিনি এই দাবি করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে। পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বৈধ নয়। যেসব সংকট দেখা দেবে সেগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, রাশিয়া জ্বালানির প্রতি নিজের বাধ্যবাধকতা মেনে চলছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, রাশিয়ার তেল নিষিদ্ধ করায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। পুতিন আরও দাবি করেছেন, রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক খাদ্যের দাম আরও বাড়বে।
মিনফিন বলে পরিচিত রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ প্রত্যাহার সীমিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তার মন্ত্রণালয় কাজ করবে। রুশ অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করা আমাদের অগ্রগাধিকার তালিকায় রয়েছে।
এফআইটি/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন