রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ইউরোপের বাইরে আটক কেন্দ্র গড়ার সিদ্ধান্ত, মানবাধিকার নিয়ে শঙ্কা

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইউরোপীয় অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা অভিবাসী আটক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব পাস করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ৩৮৯ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০৬টি এবং ৩২ জন ভোটদানে বিরত থাকেন।

এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ডানপন্থি দলগুলো চরম ডানপন্থিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবটি পাস করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে বাম ও কেন্দ্রপন্থি দলগুলো এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এককভাবে অথবা ছোট জোট গঠন করে তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। এর ফলে অনিয়মিত অভিবাসীদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে ইইউ’র বাইরের নির্ধারিত কেন্দ্রে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও গ্রিস আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

ইউরোপের চরম ডানপন্থি দলগুলো এ সিদ্ধান্তকে তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। তারা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের পক্ষে এবং অভিবাসী শনাক্ত ও বহিষ্কারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই নীতি শরণার্থী অধিকারের জন্য একটি বড় ধরনের পশ্চাদপসরণ হতে পারে। এতে নিরাপত্তা খোঁজা মানুষদের নিরুৎসাহিত করা, আটক রাখা এবং জোরপূর্বক বহিষ্কারের ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশাপাশি গণ-আটক, পরিবার বিচ্ছেদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, এই নীতি অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ফরাসি কেন্দ্র ডানপন্থি এমইপি ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের বেলামি বলেন, যদি কেউ অনিয়মিতভাবে ইউরোপে আসে, তবে তার এখানে থাকার সুযোগ থাকবে না। এই নীতিকে বাস্তবায়ন করতেই এ সংস্কার আনা হয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ইউরোপকে একটি বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসন নীতির দিকে এগিয়ে নেবে। তার মতে, রিটার্ন হাবের মাধ্যমে অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন আরও কার্যকর হবে এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা সম্ভব হবে।

তবে সমালোচকদের মতে, ইইউ’র বাইরে এসব কেন্দ্র স্থাপন করলে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফ্রান্স ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশও এই মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের আশঙ্কা, এসব কেন্দ্র বাস্তবে আইনি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হতে পারে।

নতুন আইনের আওতায় যারা দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের জন্য আটক এবং ভবিষ্যতে ইইউতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন