যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এক চরম রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে পদার্পণ করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
এই শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ দ্রুত বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইরানি সূত্রমতে, খামেনি নিজেই মৃত্যুর আগে সম্ভাব্য চারজন উত্তরসূরির নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি, যার সাথে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এছাড়াও রয়েছেন কোম শহরের জুমার খতিব আলিরেজা আরাফা, কট্টরপন্থি আলেম মোহাম্মদ মাহদি মিরবাগেরি, আয়াতুল্লাহ খামেনির নাতি এবং সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হাসান খামেনি এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মহসেনি-এজেই।
নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশের শাসনভার পরিচালনা করবে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ। এই পরিষদ নতুন নেতা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তদারকি করবে।
তবে এই রাজনৈতিক পালাবদলের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী’ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি।
ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন