চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক: ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও বিজ্ঞানীদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। যদিও এসব গোপন হামলার বিষয়ে আমেরিকাকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে। আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম সিএনএন দেশটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
মধ্যপ্রাচ্যে আগামী মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের আগে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন। ইরানের অভ্যন্তরে দেশটির বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এসব ঘটনায় ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ বাড়ছে। গত মাসে ইরানের রেভুল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাইয়াদ খোদাইকে তেহরানে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া মে মাসে দুই ইরানি রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন।
আমেরিকার এক কর্মকর্তা ও ‘অপর একটি সূত্র’ নিশ্চিত করেছে যে, খোদাইকে হত্যার পেছনে ইসরায়েল জড়িত ছিল।
ইসরায়েল বাইডেন প্রশাসনকে তার এসব গোপন কার্যক্রমের বিষয়ে অন্ধকারে রাখছে। ঘটনার আগেও এ বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনকে কিছু জানাচ্ছে না ও ঘটনার পরেও না। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ছায়া যুদ্ধ লেগে আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কিছু প্রতিবেদন ইঙ্গিত করছে যে, ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়িয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলার জন্য ছোট ড্রোন ব্যবহার করেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান নিজের মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এতে ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান প্রতিশোধ নেয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।
মঙ্গলবার (২১ জুন) ইরান বলেছে, ‘মোসাদের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এপ্রিলে আটক ব্যক্তির বিচার করা হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দেশটির পরমাণু প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন।’
এর মধ্যে ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দেশটির নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের ভয়, নিহত সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতিশোধ নিতে হয়তো ইরানের এজেন্টরা ইসরায়েলিদের ‘আটক ও হত্যা’ করতে পারে।
২০১৫ সালে হওয়া পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনার মধ্যে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ইসরায়েল ও বেশ কিছু আরব রাষ্ট্র এ চুক্তির ঘোর বিরোধী। আর চুক্তিতে ফিরে আসার জন্য বাইডেন প্রশাসনের প্রচেষ্টার জন্য উদ্বেগও জানিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে আমেকিার নেতৃত্বে আরব রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা জোট করার ক্ষেত্রে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে তেল আবিব।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন