দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে পরাজিত করার ছক কষছিল ইসরাইল। অবৈধ এই ভূখণ্ডের ইহুদিরাও জিইয়ে রেখেছিল আশা যে, একদিন তেহরানের সঙ্গে সংঘাত হবে এবং তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করবে। অবশেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সব রীতিনীতি ভেঙে ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল। এর জন্য শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার জনগণ হিরো বা নায়ক মনে করলেও ধীরে ধীরে তেহরানের পালটা হামলা বাড়তে থাকায় বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হতে থাকেন ইহুদিরা।
আবার ৪০ দিনের সংঘাত আকস্মিকভাবে শেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে আরও বেশি অপমানিত ও হতাশ হয়েছে ইসরাইলিরা। কারণ, এই যুদ্ধ তারা শুরু করলেও শেষ করার ক্ষেত্রে তাদের জিজ্ঞেসও করা হয়নি, এমনকি আলোচনার টেবিলেও তেল আবিবকে রাখা হয়নি। এতে নেতানিয়াহুকে আর নায়ক নয়, বরং ভিলেন ভাবতে শুরু করেছে জনগণ।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ইসরাইলের সাবেক এক এমপির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।
নেসেটের সাবেক সদস্য ও আপার গ্যালিলি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সিইও আইনবার বেজিক চ্যানেল ১৩-কে বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধের পরও ইসরাইল তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। উলটো নেতানিয়াহু আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ করে তুলেছেন।ইরানের বিরুদ্ধে পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ আসলে কিছুই অর্জন করেনি। এ নিয়ে ইসরাইলে ক্রমেই বাড়ছে অসন্তোষ।
আইনবার বেজিক প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কী অর্জন করেছি? নিজ ভূমির ভেতরে মৃত্যু, নিহত সৈন্য এবং হাজার হাজার বাসিন্দা যারা তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে—অথচ যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা যায়নি, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এখনো রয়ে গেছে এবং শাসনব্যবস্থা আগের মতোই রয়েছে—হিজবুল্লাহ, হুথি ও হামাসও বিদ্যমান।’
নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির সাবেক প্রধান রাম বেন-বারাক এই সংঘাতকে ‘নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির নিয়ন্ত্রণ এখন ট্রাম্পের হাতে—গাজা ও ইরানে এবং আশা করি লেবাননেও যেন তা না হয়। এটাই বাস্তবতা। নেতানিয়াহু আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ করে তুলেছেন।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইয়োসি শেইনও একই মত প্রকাশ করেন।
তিনি চ্যানেল ১২-এ বলেন, ‘ইসরাইল এই যুদ্ধ শেষ করেনি; এটি এখানে একটি গৌণ খেলোয়াড় মাত্র। তেল আবিব মূলত এটি বাঘের পিঠে চড়ে আছে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বাঘের স্বার্থ আর আরোহীর স্বার্থ এক নয়। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসতে পারিনি।’



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন