চট্টগ্রাম: গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে জিনিসপত্রের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটির বিএনপির আহবায়ক শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘কিছু দিন আগে গ্যাসের দাম ৩৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল সরকার। এখন রোববার (৩ এপ্রিল) ফের নতুন করে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হল। গ্যাসের সাথে বিভিন্ন জিনিস জড়িত থাকার কারণেই দাম বৃদ্ধি পাবে। জনবিরোধী সরকার জনগণের জন্য কোন মায়া দরদ নেই, ফলে তারা এ কাজগুলো করতে পারে। কারণ তাদের তো জবাবদিহীতা করতে হয় না। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সারা দেশের মানুষের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠে গেছে, হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে যদি ফের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, তাহলে ফের সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। এ ধরনের দাম বৃদ্ধি গণবিরোধী উদ্যোগ।’
সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকালে চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের বাটা শো রুমের পাশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের পক্ষে গোলাম কাদের চৌধুরী নোবেলের সৌজন্যে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির নিন্দা ও ওই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে চাল, ডাল, তেল, পিয়াজ, মরিচ, গুঁড়ো দুধ, শাক-সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামে ক্রেতারা অসহায়। মোটা চাল এখন ৫৫-৬০ টাকা, ভোজ্য তেল ১৭০-১৮০ টাকা, মসুর ডাল ১১০-১৩০ টাকা, গুঁড়ো দুধ ৫৯০-৬৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকার নিচে নামে না। সবজিসহ প্রত্যেকটি জিনিস এ ভরা মৌসুমে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্যামিতিক হারে দাম বৃদ্ধি সরকারের গণবিরোধী নীতির বর্ধিত প্রকাশ। হরিলুট ও টাকা পাচারসহ সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির ভয়াবহ ক্ষতি করে দফায় দফায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও পানির দাম বৃদ্ধি করেছে আওয়ামী সরকার। এ বৃদ্ধির ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ হিসেবেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘গত ১০ বছরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হয়েছে ৯০ শতাংশ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪৪ শতাংশ, ডিজেলের দাম বেড়েছে ৮২ শতাংশ, পানির দাম বেড়েছে ২৬৪ শতাংশ। এ দাম বৃদ্ধি নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক। জনগণের নির্বাচিত সরকার থাকলে এ ধরনের সীমাহীন দাম বৃদ্ধি পেত না। জবাবদিহীতা নেই বলেই দাম বৃদ্ধির পেছনে অনৈতিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। ক্ষুধা ও অনাহারে ক্লিষ্ট জনগণের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত করেছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। যেন সরকারের কোন দায় নেই। সারা দেশে দুর্ভিক্ষের ছায়া প্রতিদিনই বিস্তৃত হচ্ছে।’
তিনি ক্ষুধা, অনাহার ও অর্ধাহারে বিপন্ন মানুষকে এ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিএনপি ও সমাজের বিত্তশালী মানুষদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সভাপতি মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, শোলক বহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক হাসান ওসমান চৌধুরী, নাসিরাবাদ সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহিদুর রহমান বেলাল, নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ, শাহী ওমরান রমজান, এসএম রব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, মহানগর কৃষক দলের যগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মহসিন কবির আপেল, আলিফ উদ্দীন রুবেল, শাহাদাত হোসেন পারভেজ, মোহাম্মদ সাদেক, রিদোয়ান হোসেন জনি, আনোয়ার হোসেন পলাশ, আলী আকবর চৌধুরী, শাহাজী চিশতী, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, মো. ইউনুছ।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন