চট্টগ্রাম: অতিমারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার ২২ জুন) নতুন ৪৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ হার তিন দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে এ সময় আক্রান্ত কেউ মারা যায় নি। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বৃহস্পতিবারের (২৩ জুন) রিপোর্টে এ সব তথ্য জানা যায়।
গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুনের প্রথম সপ্তাহ শেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারায় বুধবার (২২ জুন) সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় চট্টগ্রামে।
রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, এন্টিজেন টেস্ট ও সিটির দশ ল্যাবে বুধবার (২২ জুন) ৭৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ৪৬ জন পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে শহরের ৪৪ ও দুই উপজেলার দুই জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে রাউজান ও বোয়ালখালীতে এক জন করে রয়েছেন। জেলায় মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এখন এক লাখ ২৬ হাজার ৮৪৭ জন। সংক্রমিতদের মধ্যে শহরের ৯২ হাজার ৩০০ ও গ্রামের ৩৪ হাজার ৫৪৭ জন।
করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে বুধবার শহর ও গ্রামে কারো মৃত্যু হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৩৬২ জনই রয়েছে। এতে শহরের ৭৩৪ ও গ্রামের ৬২৮ জন।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে বুধবার সবচেয়ে বেশি ২৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখানে শহরের ছয় জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছন। সরকারি ল্যাবরেটরির মধ্যে ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ৬৬টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ১১ একটিতে করোনার জীবাণু পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ৩১ জনের নমুনায় গ্রামের তিন জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে ৪৪টি নমুনার একটিতে করোনাভাইরাস মিলে। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ নয় নমুনার মধ্যে শহরের দুইটিতে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন বুথে ১৮ জনের এন্টিজেন টেস্ট করা হলে একজনেরও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি শেভরনে ৩৬টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের নয় জন করোনা পজিটিভ বলে জানানো হয়। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৫৪ জনের নমুনার মধ্যে শহরের চার জন শনাক্ত হন। মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের একটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়। এপিক হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ল্যাবে ৪০ নমুনায় শহরের দুই ও গ্রামের দুইটিতে জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। মেট্রোপলিটন হাসপাতালে দুই জন আক্রান্ত পাওয়া যায়। এখানে ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এভারকেয়ার হসপিটাল ল্যাবে ছয় নমুনার ৩টিতেই ভাইরাস শনাক্ত হয়।
এ দিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ল্যাব এইডে কোন নমুনা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রামের একটি নমুনাও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয় নি।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে সংক্রমণ হার পাওয়া যায় বিআইটিআইডিতে ১৬ দশমিক ৬৬, চমেক হাসপাদালে নয় দশমিক ৬৮, সিভাসুতে দুই দশমিক ২৭, আরটিআরএলে ২২ দশমিক ২২, শেভরনে ২৫, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে সাত দশমিক ৪১, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে তিন দশমিক ৭১, এপিক হেলথ কেয়ারে দশ, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ল্যাবে এক দশমিক ৪২৮, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে দুই দশমিক ১৩ শতাংশ ও এভারকেয়ার হসপিটাল ল্যাবে ৫০ শতাংশ ও এন্টিজেন টেস্টে ০ শতাংশ।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন