বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

কাজের টোপ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের

বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। বেসামরিক চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে জোর করে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধে নামানো হয়। যুদ্ধে যেতে না চাইলে কারাদণ্ড, মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অনুসন্ধানে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

এভাবে কতজন বাংলাদেশি প্রতারিত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শতাধিক বাংলাদেশিকে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে দেখেছেন। এপি জানায়, এভাবে ভারত ও নেপালসহ আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও নিয়োগ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মাকসুদুর রহমানকে এক দালাল রাশিয়ায় পাঠান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে দেখতে পান। মাকসুদ জানান, মস্কো পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করানো হয়। পরে জানা যায়, সেগুলো ছিল সামরিক চুক্তি। এরপর তাদের সেনা ক্যাম্পে নিয়ে ড্রোন যুদ্ধ, অস্ত্র ব্যবহার ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনি জানান, আপত্তি জানালে এক রুশ কর্মকর্তা অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে বলেন, তোমাদের এজেন্টই তোমাদের এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনেছি। এ সময় মাকসুদের সঙ্গে আরও দুজন বাংলাদেশি যুবক ছিলেন। তারা জানান, জোর করে তাদের যুদ্ধের সামনের সারিতে পাঠানো হতো, মালামাল বহন করানো হতো, আহতদের উদ্ধার ও লাশ সংগ্রহে বাধ্য করা হতো।

মাকসুদ আরও জানান, কাজ না করলে তাদের ১০ বছরের জেলের হুমকি দেওয়া হতো এবং মারধর করা হতো। সাত মাস পর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরেন। আরেক ভুক্তভোগী মোহান মিয়াজি জানান, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে তাকে নেওয়া হয়। পরে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। আদেশ না মানলে তাকে নির্যাতন করা হতো। ভাষা না বোঝার কারণে ভুল করলে নির্মমভাবে মারধর করা হতো বলেও জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুরের অনেক পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের পাঠানো কাগজপত্র ধরে রেখে আশায় আছেন- একদিন তারা ফিরে আসবেন।

সালমা আক্তার জানান, তার স্বামী আজগর হোসেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ায় যান লন্ড্রির কর্মীর চাকরির আশায়। পরে জানা যায়, তাকে জোর করে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। শেষবার তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন, আমার জন্য দোয়া কর।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তাকারী সংস্থা ব্র্যাক ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিষয়টি তদন্ত করে ১০ জন নিখোঁজ শ্রমিকের তথ্য পায়। ব্র্যাকের কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন, এখানে দুই থেকে তিন স্তরের দালালচক্র আছে। বাংলাদেশ পুলিশও একটি মানব পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি ইউক্রেন যুদ্ধে মারা যেতে পারেন। তদন্তে দেখা গেছে, স্থানীয় এজেন্টরা কেন্দ্রীয় দালালের মাধ্যমে শ্রমিকদের রাশিয়ায় পাঠাত। নিখোঁজদের পরিবার জানায়, তারা এখনো কোনো অর্থ পাননি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন