শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, এলডিপির মহসচিব রেদওয়ানসহ চারজন গ্রেফতার

সোমবার, মে ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: কুমিল্লার চান্দিনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের ছোড়া গুলিতে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর বিকেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী আখলাকুর রহমান জুয়েল বাদী হয়ে ১৫জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ড. রেদোয়ান আহমেদসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

তারা হলেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ (৬৯), মহিচাইল গ্রামের রবিউল্লাহ’র ছেলে আলী (৩৭), হারং গ্রামের আব্দুল মবিন এর ছেলে বাকি বিল্লাহ (৩৯) ও রেদোয়ান আহমেদ এর গাড়ি চালক সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেছড়া খামারখাতা গ্রামের আব্দুল হাই শেখ এর ছেলে রেজাউল করিম (৫৫)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. তানভীর আহমেদ জানান, পাল্টাপাল্টি সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি থেকে গুলি ছুড়েন। প্রাথমিকভাবে রেদোয়ান আহমেদ গুলি ছোড়ার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। কাজী আখলাকুর রহমান জুয়েল নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামরা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় ৪জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরের রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে এলডিপি ও ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাল্টাপাল্টি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্রে করে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর রেদোয়ান আহমেদ থানায় আশ্রয় নিলে উত্তেজিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা চান্দিনা থানার প্রধান ফটক ঘেরাও করে। পরে তাকে এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে জানান কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মো. ফয়েজ ইকবাল।

গুলিতে আহত দুজন হলেন- চান্দিনা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা রূপনগর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ছেলে মাহমুদুল হাসান জনি সরকার (২২)। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অপরজন হলেন চান্দিয়ারা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে নাজমূল হোসেন নাঈম (২৮)। তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, চান্দিনা পৌরসভা রোডের রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাস-২ মমতাজ আহমেদ ভবনের সামনে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিল। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে আসার পর কলেজ গেটে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা রেদোয়ান আহমেদের গাড়ি থামিয়ে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা ওই গাড়িতে তরমুজ ছুড়ে মারে। এ সময় রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি থেকে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। 

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামিরুল খন্দকার রবি বলেন, চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ছাত্রলীগ ঈদের পূর্ব থেকে সোমবার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই মধ্যে পৌর এলডিপি একই দিন একই স্থানে ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। সোমবার দুপুর থেকে ছাত্রলীগের আয়োজনে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা যখন মমতাজ আহমেদ ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে তখন রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি নিয়ে ওই ক্যাম্পাসের সামনে এসে গাড়ি থেকে দুটি গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। রেদোয়ান আহমেদের গুলিতে জনি ও নাজমুল গুলিবিদ্ধ হয়। রেদোয়ান আহমেদ রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিকভাবে গুলি চালান।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল। আমাকে প্রধান অতিথি করে চিঠির মাধ্যমে পৌর এলডিপি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরই মধ্যে আমাদের প্রধান ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে প্রোগ্রাম করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। ক্যাম্পাস-২ মমতাজ আহমেদ ভবনে আমাদের পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম করার কথা। দুপুরে আমি ক্যাম্পাস-২-এর সামনে গেলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোকজন আমার গাড়িতে হামলা করে। আমি আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করা শটগানের গুলি চালাই। কার গায়ে গুলি লেগেছে আমি বলতে পারব না। পরে আমি থানায় এসে আশ্রয় নিই।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মো. ফয়েজ ইকবাল জানান, পাবলিক রোষানলে পড়ে রেদোয়ান আহমেদ থানায় আশ্রয় নিতে এলে আমরা তাকে আটক করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন