বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

‘গোপন অস্ত্রভাণ্ডার এখনো অক্ষত’— ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরান

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে ইরান দাবি করেছে, তাদের গোপন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত এখনো অক্ষত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যেসব স্থানে হামলা করেছেন বলে মনে করছেন, সেগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কৌশলগত সামরিক উৎপাদন এমন সব স্থানে হয়, যেগুলোর বিষয়ে আপনাদের কোনো ধারণা নেই এবং কখনোই পৌঁছাতে পারবেন না।’

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা কিছুটা কমেছে, তবুও তেহরান এখনো পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

এদিকে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গত চার সপ্তাহে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে মিত্রদের সহায়তার জন্য অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে।

তিনি সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ‘আমরা তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না।’

ভাষণে ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

তিনি দাবি করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরাইলের মৃত্যু’ স্লোগান দিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন হামলার পেছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন আগেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছে এবং ২০২০ সালে ইরানের কুদস ফোর্সের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।

ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান সামরিক অভিযানের ‘মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জিত’ এবং যুদ্ধ শেষের পথে। তবে প্রয়োজন হলে আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা আরও বড় ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানবে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ জানায়, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এই যুদ্ধ চলবে—আপনাদের অপমান, পরাজয়, স্থায়ী অনুতাপ ও আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আরও কঠোর, বিস্তৃত এবং ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন