রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

গ্রিনল্যান্ডে ‘ভাসমান হাসপাতাল’ পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান‘হাসপাতাল জাহাজ’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সহায়তায় একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডে অনেক অসুস্থ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং তাদের সেবা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিজের বার্তার সঙ্গে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজ ‘ইউএসএস মার্সি’-এর একটি চিত্রও যুক্ত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণা কূটনৈতিক মহলে বেশ বিভ্রান্তি ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। কারণ গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কে উন্নত ও জাতীয়করণকৃত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বিদ্যমান, যা নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ড্যানিশ সরকার বা গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ল্যান্ড্রি প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড দখল বা কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহ রয়েছে। গত জানুয়ারিতে তিনি ন্যাটোর প্রধানের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা’ ঘোষণা করেছিলেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ‘ইউএসএস মার্সি’ এবং ‘ইউএসএস কমফোর্ট’ নামে দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ রয়েছে, যা সাধারণত মানবিক বিপর্যয় বা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ নামে একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ কি স্রেফ মানবিক সহায়তা নাকি গ্রিনল্যান্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো কৌশলের অংশ, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন