চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে নগর ভবনে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।
এ সয় রেজাউল করিম চৌধুরী রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জাপান বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ। জাপানের মত ঘনিষ্ঠ বন্ধু সব সময় বাংলাদেশের সাথে থাকলে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার গতি আরো তরান্বিত হবে। চসিক সড়ক উন্নয়ন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।
মেয়র রাষ্ট্রদূতকে জানান, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে চট্টগ্রাম অন্যতম এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী অবদান রাখছে। এখানে চসিকের পরিচালনায় ৬০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৫০টির বেশি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া জাইকার সহযোগিতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সেবামূলক অনেক কাজ করে যাচ্ছে। জাইকার অর্থায়নে অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে কনজারভেন্সি সেন্টার স্থাপনের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দূষণ মুক্ত ও পরিবেশ বান্ধব হবার নতুন সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচিত হবে।
রেজাউল করিমন সিটির কাট্টলীর সাগর পাড়ে চসিকের এমিউজমেন্ট পার্ক ও ঠান্ডাছড়িতে রিভোকেশনাল জোন, রেল ক্রসিং ওভার পাস নির্মাণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, কর্ণফুলী নদীর পাড়ে চর বাকলিয়ায় পর্যটন কেন্দ্র ও শাহ আমানত ব্রীজ থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে বলে রাষ্ট্রদূতকে জানান এবং জাপানের ব্যবসায়ীরা চাইলে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ইতো নাওকি বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু। দুই দেশের বন্ধুত্ব কেবল পারস্পরিক স্বার্থের জন্য নয়, মূলত খাঁটি সহানুভূতিরই একটি অংশ। চট্টগ্রাম প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর একটি সিট। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নের নতুন ধাপে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। চট্টগ্রামকে ঘিরে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাব। এখানে পর্র্যটন শিল্পেরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে।’
রাষ্ট্রদূত চসিক কর্তৃক বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার পরিকল্পনায় জাপান সরকার জাইকার মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে জাইকার চীফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হায়াকাওয়া ইউহো, ইতো ডিসওকি, চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদ, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, মনিরুল হুদা, কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সিটি পরিকল্পনাবিদ আব্দুল্লাহ আল ওমর উপস্থিত ছিলেন।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন