শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড স্কয়ার এখন ‘লিটল বাংলাদেশ’

বুধবার, জুলাই ২৭, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ইফতেখার ইসলাম: পৃথিবীর সুনামধন্য শহরগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির নাম। আর এই শহরে বসবাস করেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। কিছু কিছু অঞ্চল এমনও আছে যে, বুঝা মুশকিল হয়ে পড়ে এটি বাংলাদেশ না আমেরিকা। এমনি এক বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসাবে ঘোষণা করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল।

ব্রুকলিনে অবস্থিত স্থানটিকে লিটল বাংলাদেশ হিসেবে নামকরণের বিল উত্থাপন করেছিলেন নিউইয়র্কে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সিটি কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। গত ১৪ জুলাই উত্থাপিত বিলটি ৪৭-০ ভোটে সিটি কাউন্সিলে পাশ হয়। ফলে যেকোনো সময় ওই ইন্টারসেকশনে ‘লিটল বাংলাদেশ’ সাইন লাগানো যাবে।

এ বিষয়ে শাহানা হানিফ বলেন, আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা এ এলাকাতেই। তাই এখানকার উন্নয়নে বাঙালিত্ব উদ্ভাসিত করতে দ্বিধা করবো না। তবে প্রতিটি মানুষকে ব্যালটযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে। অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে ভোটদানের হিসাবটি সামনে আসে সবসময়।

শাহানা বলেন, আমি ঘটা করেই ‘লিটল বাংলাদেশ’ সাইন ঝুলাবো। সে সময় আপনাদেরকে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানানো হবে। আমরা সবাই মিলে ‘লিটল বাংলাদেশ’ ঘোষণার অফিসিয়াল দিনটি সেলিব্রেট করবো।

ব্রুকলিন মেলার পরিবর্তে হবে লিটল বাংলাদেশ মেলা:

লিটল বাংলাদেশ হিসেবে সড়কটির নামকরণ করায় গত ১৬ জুলাই শনিবার ব্রুকলিনের স্থানীয় চার্চ এভিনিউতে আয়োজিত ‘ব্রুকলিন মেলা ও ঈদ আনন্দ উৎসব’ এ অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার প্রবাসীর মধ্যে দেখা যায় বাড়তি আমেজ। এজন্য তারা শাহানা হানিফকে অভিনন্দন জানাতেও ভুলেন নি।

এইদিকে মেলা ও উৎসবের প্রধান আয়োজক কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম ঘোষণা করেন , আগামী বছর থেকে অর্থাৎ ২০২৩ সাল থেকে ব্রুকলিনে ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামে মেলার আয়োজন করা হবে । বিগত ৭ বছর ধরে বাংলাদেশি আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক এবং ৬৬ প্রিসিনক্ট কমিউনিটি কাউন্সিল যৌথভাবে ‘ব্রুকলিন পথমেলা’র আয়োজন করে আসছিল।

উচ্ছ্বসিত নিউইয়র্কের বাংলাদেশিরা:

চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইন্টারসেকশনকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে নামকরণ করায় উচ্ছ্বসের শেষ নেই প্রবাসীদের। তারা বলছেন, এটির মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম আরো একস্থানে সংযুক্ত হলো। যা আমাদের জন্য গর্বের ও আনন্দের।

ইব্রাহিম খলিল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, পড়াশোনার জন্য এখানে এসেছি। এলাকাটিতে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশির বসবাস। এই স্থানটিকে লিটল বাংলাদেশ হিসেবে নামকরণ বাঙালিদের জন্য সন্মানের।

পারভীন সুলতানা নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাংলাদেশের নাম বিশ্ব দরবারে যত স্থান পাবে তত আমাদের ভালো লাগা কাজ করবে। স্থানটির নাম বাংলাদেশের নামে করায় সত্যি খুব ভালো লাগছে। তিনি বলেন, আমাদের সকলের উচিত দেশের জন্য কাজ করা; দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও হোমলন স্ট্রিটের ইন্টারসেকশনকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে উন্মোচন করা হয়। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নামে সড়ক ও স্থান রয়েছে।

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন