বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

‘চিকেনস নেক’ করিডরে হঠাৎ পাতাল রেল তৈরির পরিকল্পনা ভারতের

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে ভারতের। এরই মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য। এছাড়া তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে ঢাকা এবার চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই উদ্বেগে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

এ অবস্থায় নিজেদের কৌশলগত অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে এবার সংবেদনশীল এ এলাকায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল রেল নির্মাণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটি।

সোমবার(২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা দেন।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র পথ হলো এই শিলিগুড়ি করিডোর। ভৌগোলিকভাবে এই করিডোরটি এতটাই সরু যে কোনো কোনো স্থানে এর প্রশস্ততা মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। ভারতের এই ‘দুর্বল জায়গা’ বা চিকেনস নেকের চারপাশেই রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান; আর মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে চীনের সীমান্ত। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই পথটি অবরুদ্ধ হলে উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটের বরাদ্দ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার সময় বৈষ্ণব বলেন, ‘উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সাথে যুক্ত করা ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডোরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন এবং বর্তমান লাইনগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে।’

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, ভূগর্ভস্থ এই অংশটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট ও রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যে বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার দিক থেকে এই ভূগর্ভস্থ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরার দিকে যাবে, যা ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রেললাইনগুলো সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০-২৪ মিটার গভীরে স্থাপন করা হবে। বর্তমানে বিদ্যমান দুই লেনের রেললাইনকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব মিলিয়ে কৌশলগত এই করিডোরে মোট ছয়টি রেললাইন থাকবে—যার মধ্যে চারটি থাকবে মাটির উপরে, দুটি মাটির নিচে।

ভারতের জন্য এই করিডোর দীর্ঘকাল ধরেই একটি দুর্বল জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এখানকার যোগাযোগব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা ও সেনা চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন