শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

জিএসপি প্লাসের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের

মঙ্গলবার, জুলাই ১৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) প্লাসের আওতায় পোশাক পণ্যে বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ এখনো বাংলাদেশের আছে। পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতাদের সাথে এক বৈঠকে এমন আশা দেখিয়েছেন বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।

সোমবার (১৮ জুলাই) পোশাক পণ্যের শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধি দলের চেয়ার ও পার্লামেন্ট সদস্য হেইডি হাওতালা। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন জোসে ম্যানুয়েল গার্সিয়া-মার্গ্যালো, সোভেনসিমন, অ্যাগনেস জঙ্গেরিয়াস, জর্ডি ক্যানাস পেরেজ এবং ম্যাক্সিমিলান ক্রাহ। প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির (আইএনটিএ) হেড অব ইউনিট মার্টি কালাউস এবং আইএনটিএ কমিটি প্রশাসক গ্যাব্রিয়েল আলভারেজ রেকারটে। বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান চার্লস হোয়াইটলিও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন সভাপতি ফারুক হাসান, সহসভাপতি মিরান আলী, সহসভাপতি (অর্থ) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. নাসির উদ্দিন, পরিচালক হারুন অর রশিদ, পরিচালক ভিদিয়া অমৃত খান, বিজিএমইএ এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন আইএলও ইস্যুর চেয়ারম্যান এএনএম সাইফুদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন নিট পোশাক পণ্যের শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহসভাপতি মো. আকতার হোসেন অপূর্ব।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় প্রতিনিধি দলের গুরুত্ব দেয়া বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ইপিজেড আইন সংশোধন। ইপিজেডের নিজস্ব পরিদর্শনের ধারাটি সংশোধন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আওতায় পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রণয়নে পোশাক শিল্পমালিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পোশাক শিল্পমালিকরা শ্রমিকদের কালোতালিকাভুক্ত করে এমন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় তুলেছে ইইউ প্রতিনিধি দল। এ ছাড়া শ্রম আদালতে বিপুল পরিমাণ মামলা ঝুলে থাকাসহ কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়েও আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধি দলে থাকা ইইউ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সদস্যরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে আগ্রহী এমন তথ্য জানিয়ে বৈঠক সূত্র বলছে, এ বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হলে ফলপ্রসূ হতে পারে বলে পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিরা প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছে। বৈঠকে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল জিএসপি প্লাসের আওতায় পোশাক পণ্যের বাণিজ্য সুবিধাপ্রাপ্তির বিষয়টি। এ সুবিধার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্য ইইউর মোট আমদানির ছয় শতাংশের বেশি হলে একটি দেশ থেকে সে পণ্য প্রবেশে দেশটির রপ্তানিকারকরা বাণিজ্য সুবিধা পাবেন না। এ নিয়ম কার্যকর হলে বাংলাদেশি ওভেন ও নিট পোশাক ও হোমটেক্সটাইল পণ্যের কোনটিই বাণিজ্য সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় থাকার সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ আশা করতে পারে বলে জানিয়েছেন ইইউ পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল।

ফারুক হাসান সফররত প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণের ক্ষেত্রে শিল্পের অগ্রগতিসহ শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি অবহিত করেন। তিনি জানান, বিজিএমইএ সম্প্রতি তার টেকসই কৌশলগত রূপকল্প উন্মোচন করেছে, যার লক্ষ্য পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি এমনভাবে ত্বরান্বিত করা, যা টেকসই ও অর্থনীতি, পরিবেশ ও জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শ্রম অধিকার ও কল্যাণ ইস্যুতে আরো উন্নতির জন্য পোশাক শিল্প আইএলওর সহযোগিতায় সরকার কর্তৃক তৈরি করা রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সরকারের সাথে এক হয়েছে জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘ দিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যা সময়ের সাথে আরো শক্তিশালী হয়েছে।’

পোশাক শিল্পের উন্নতিতে সহযোগিতা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানিয়ে এলডিসি-পরবর্তী যুগেও ইইউ বাংলাদেশে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফারুক হাসান।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন