রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

জেলেনস্কি একজন ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ইরানের বিক্ষোভ দমনের কঠোর সমালোচনা করায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

জেলেনস্কির মন্তব্যের জবাবে তাকে ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’ বলে আখ্যা দিয়ে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দাভোসে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার পরও যদি ক্ষমতায় টিকে থাকে, তবে তা বিশ্বের সকল স্বৈরশাসকের কাছে একটি স্পষ্ট সংকেত পাঠাবে যে—যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ মারতে পারলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

জেলেনস্কির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ইংরেজি পোস্টে আরাগচি পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের নেতা তার দেশের ‘দুর্নীতিবাজ জেনারেলদের’ পকেট ভরতে মার্কিন ও ইউরোপীয় করদাতাদের অর্থ অপচয় করছেন।

জেলেনস্কির এক সময়ের সফল কৌতুকাভিনেতা জীবনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পৃথিবী এখন এই ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়দের’ নিয়ে ক্লান্ত। আরাগচি আরও দাবি করেন, ইরান তার দেশকে রক্ষা করতে জানে এবং ইউক্রেনের মতো বিদেশি সাহায্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাতে না।

দাভোসের ভাষণে জেলেনস্কি ইরানের বিক্ষোভ দমনে পশ্চিমা বিশ্বের নিষ্ক্রিয়তারও নিন্দা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইউরোপ যখন বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিতে ব্যস্ত ছিল, সেই সময়ের মধ্যে ইরানের আয়াতুল্লাহ সরকার হাজার হাজার মানুষকে রক্তস্রোতে ডুবিয়ে দিয়েছে। তার মতে, বিশ্ব ইরানি জনগণের সহায়তায় এগিয়ে না এসে কেবল দূরে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে।

ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সরবরাহ করছে যা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও তেহরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানে চলমান সাম্প্রতিক বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে তথ্যের ব্যাপক গরমিল রয়েছে। সরকারিভাবে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন এনজিও অভিযোগ করেছে যে নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্য পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন