চলমান ডেস্ক: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে আহত আরো ৭৪ জন। ৩৭টি মৃতদেহের মধ্যে ৩৩টি এমনভাবে পুড়েছে চেহারা চেনার উপায় নেই। লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এমভি অভিযান-২ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনার দিকে যাচ্ছিল। সুগন্ধা নদীর দিয়াকুল নামক স্থানে হঠাৎ করেই চলন্ত লঞ্চে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এ সময় নদীতে লাফ দিয়ে জীবন বাঁচায় অনেকে। সেই সঙ্গে দগ্ধ হয়েছে বহু মানুষ।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, ওই লঞ্চে মোট কতজন যাত্রী ছিল এখনো সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে শোনা যাচ্ছে তিনশতাধিক যাত্রী ছিল। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এই পর্যন্ত ৩৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরো জানান, ফায়ার সার্ভিস অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পায় ভোর চারটার দিকে। দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেককেই উদ্ধার করে। এছাড়া এর আগেই গ্রামবাসীরা সংবাদ পেয়ে এই উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করে। লঞ্চে থাকা অনেক যাত্রী দগ্ধ অবস্থায় সাঁতার দিয়ে তীরে ওঠে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসা দিতে ইনস্টিটিউট প্রস্তুত আছে। ইনস্টিটিউট থেকে চারজন চিকিৎসককে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে দগ্ধদের চিকিৎসা দিতে যাওয়ার কথা আছে।
এইদিকে মালদ্বীপে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আইআই/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন