বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

টকশোতে অঝোরে কাঁদলেন সাংবাদিক শাবান মাহমুদ, কিন্তু কেন?

বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

দেশের গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি টকশো ‘গণতন্ত্রের জন্য সংলাপ’এ অঝোরে কাঁদেন সাংবাদিক শাবান মাহমুদ। টকশোটি উপস্থাপন করেন খন্দকার ইসমাইল। দীর্ঘদিন আমেরিকায় একা থাকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

শাবান মাহমুদ বলেন, ‘এই সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, নানা ধরনের হয়রানিমূলক মামলা এবং মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের পরিবারগুলো অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে তারা এই দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সাংবাদিকদের জীবনে এক ভয়াবহ অমানিশার অন্ধকার নেমে এসেছে।’

তিনি আরও জানান, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন, এবং যারা ৭১ সালের সংগ্রামকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস রাখেন, তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কিন্তু আজ অনেকেই পরিবার থেকে দূরে, সন্তানদের দেখা পাচ্ছেন না। তাদের জীবন, শিক্ষাজীবন ও সংসারে গভীর প্রভাব পড়েছে। পরিবারিক বন্ধন ক্রমাগত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।’

শাবান মাহমুদ বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক চাকুরিচ্যুত হয়ে তাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না। অনেকের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হয়েছে, এবং বহু পরিবারের সংসারে অপ্রত্যাশিতভাবে দারিদ্র্য নেমে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন এবং অবিচার আগে কখনো লক্ষ্য করা যায়নি। সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করা, প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন অফিস, কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখা এবং তাদের একাকীত্বে ফেলা একটি ভয়ংকর পরিস্থিতি।’

শাবান মাহমুদ বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের জীবনের নিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনতে হবে। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। যারা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে জীবন সংগ্রামে টিকে আছেন, তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে হবে।’

তিনি বিশেষভাবে কারানির্যাতিত সাংবাদিকদের নাম উল্লেখ করেন। এর মধ্যে আছেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপা, এবং সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তার মতে সারাদেশে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক এ ধরনের অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।

তবে টকশোতে জুলাই গণহত্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করায় তিনি নেটিজেনদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্টে তুলোধুনো করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

জানা গেছে, সাংবাদিক শাবান মাহমুদ দীর্ঘদিন আমেরিকায় একাকী জীবনযাপন করেছেন। বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরাও সেখানে অবস্থান করছেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন