টালিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় মারা গেছেন। গত রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রজগতে পরিচিতি পান।
বাংলাদেশি তারকা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল রাহুলের। তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুষড়ে পড়া চঞ্চল চৌধুরী। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একাধিক সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করে বাংলাদেশি এই তারকা বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এর আগে অভিনেত্রী জয়া আহসান সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্টে রাহুলকে স্মরণ করেছেন।
চঞ্চল চৌধুরী ফেসবুক স্টোরিতে লেখেন, ‘তোমার দেওয়া আনন্দ আর রেখে যাওয়া ভালোবাসার মধ্যেই তুমি বেঁচে থাকবে। তোমার অভাব অনুভব করব, রাহুল।’
তালসারিতে শুটিং চলাকালে গতকাল রোববার দুর্ঘটনার পর রাহুলের মরদেহ প্রথমে নেওয়া হয় দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। পরে তা আনা হয় তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় ময়নাতদন্ত।
হাসপাতাল সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে রাহুলের ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে বালু ও নোনাপানি পাওয়া গেছে।
তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছেন, প্রাথমিক ময়নাতদন্তে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে বিপুল পরিমাণ বালু ও নোনাপানি জমা ছিল। এমনকি শ্বাসনালিতে বালুর কণার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ঘটে।
ময়নাতদন্তে আরও দেখা গেছে, ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়ে প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছিল। চিকিৎসকদের মতে, পানি ও বালুকণার প্রবেশে ফুসফুসের ভেতরে বায়ুথলিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অক্সিজেন আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যায়, যা ডুবে মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, শরীরে যে পরিমাণ বালু ও নোনাপানি পাওয়া গেছে, তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রাহুল দীর্ঘ সময়, অন্তত এক ঘণ্টার বেশি সময় পানির নিচে ছিলেন। এছাড়া দেহে বড় ধরনের আঘাতের স্পষ্ট কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যুর দিকেই ইঙ্গিত করছে। সোমবার বিকেলে তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে, যেখানে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন