শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ডেপুটি স্পিকারকে শেষ বিদায়, লাখো মানুষের শ্রদ্ধা

মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : সর্বস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়াকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে প্রথম জানাজা ও নির্বাচনী এলাকা গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী হাই স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া টানা ৯ মাস মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে গত শনিবার ভোররাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কস্থ মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, হুইপ ইকবালুর রহিম এবং আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা মরদেহ গ্রহণ করেন। সেখান থেকে মরদেহ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়।  
আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করার পর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব আবু সালেহ মো. সলিমুল্লাহ্। জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতিসহ মরহুমের সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। জানাজার আগে ফজলে রাব্বী মিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনী তুলে ধরা হয়।

পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের কফিনে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রমূখ।

এছাড়া আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরদেহের কফিনে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ ওবায়দুল কাদের বলেন, ফজলে রাব্বী মিয়া কতটা ভালো মানুষ ও কতটা জনপ্রিয় ছিলেন সেটা নতুন করে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সাত বার নির্বাচিত হয়েছেন- এতেই বোঝা যায় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী, নির্লোভ, নিরহংকারী মানুষ ফজলে রাব্বী মিয়া বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া রাজনীতি থেকে একজন ভালো মানুষের চিরবিদায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঈদগাহ মাঠ থেকে বেলা ১২টার দিকে ফজলে রাব্বী মিয়ার মরদেহ তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ নেওয়া হয় ডেপুটি স্পিকারের গ্রামে বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটায়। বেলা ২টার দিকে মরদেহ পৌঁছায় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এরপর সেখান থেকে তার মরদেহ নেওয়া হয় ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরের জনগণ। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ নিজ বাড়ি গটিয়া গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫টায় আরেকটি জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন