চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক: চার দিকে হাঁসফাঁস! গরমের উৎপাতে দিশেহারা অবস্থা। নানা রকম অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে যাদের প্রচন্ড গরমে খোলা মাঠে চলাফেরা বা কায়িক পরিশ্রম করতে হয়, তাদের জন্য অন্যতম ভয়াবহ বিপদের নাম হিট স্ট্রোক।
চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী প্রচন্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে তাকে হিট স্ট্রোক বলে।
স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কোন কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ত্বকের রক্তনালী প্রসারিত হয় ও অতিরিক্ত তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে ঘামের মাধ্যমেও শরীরের তাপ কমে যায়। কিন্তু প্রচন্ড গরম ও আদ্র পরিবেশে অনেকক্ষণ থাকলে বা পরিশ্রম করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব হয় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায় ও হিট স্ট্রোক দেখা দেয়।
তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে শরীরের মাংসপেশী ব্যথা করে, দুর্বল লাগে ও প্রচন্ড পিপাসা হয়। এর পরের ধাপে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এ দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে ও শরীর প্রচন্ড ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হল: শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। ঘাম বন্ধ হয়ে যায়। ত্বক লালাভ হয়ে যায়। নিঃশ্বাস দ্রুত হয়। নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়। রক্তচাপ কমে যায়। খিঁচুনি, ঝিমঝিম, অস্বাভাবিক ব্যবহার, হ্যালুসিনেশন, ও অসংলগ্নতা ইত্যাদি। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে। রোগী শকেও চলে যায়।
প্রতিরোধ: গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। যেমন: হালকা, ঢিলেঢালা কাপড় পরতে হবে। কাপড় সাদা বা হালকা রংয়ের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভাল। যথাসম্ভব ঘরের ভেতর বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে হবে। বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করতে হবে।
প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করতে হবে। মনে রাখতে হবে, গরমে ঘামের সাথে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সাথে সাথে লবণযুক্ত পানীয় যেমন- খাবার স্যালাইন, ফলের রস ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই ফোটানো হতে হবে।
এ ছাড়া কয়েকটি পানীয় পান করলে হিট স্ট্রোকের ঝুকি হ্রাস পায়। যেমন- গরমে কাঁচা আমের জুস খুবই উপকারী। এটা শরীর ঠান্ডা রাখে ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। আয়ুর্বেদ বিদ্যায় বলা হয়, প্রতিদিন এক গ্লাস মাঠা খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। এটা প্রোবায়োটিক্সয়ের ভাল উৎস ও গরমে পানি স্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। তাই গরমের অস্বস্তি থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় মাঠা যুক্ত করুন।
তেঁতুলের সুস্বাদু শরবত সবাই খুব পছন্দ করে। তা ছাড়া গরমে এ শরবত খাওয়া সবচেয়ে বেশী উপযোগী। ভিটামিন ও ইলেক্ট্রোলাইট সম্পন্ন তেঁতুল গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি পেটের নানান ধরনের সমস্যা সমাধান করে।
‘হিট স্ট্রোক’ থেকে বাঁচার অন্যতম ভাল উপায় হল পেঁয়াজের রস। অনেকেই এর ঝাঁজালো স্বাদ পসন্দ করে না। তবে এর রস ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন। পেঁয়াজের রস গরম থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।
ধনিয়া ও পুদিনার শরবত গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে। যা শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়ার জন্য উপযুক্ত পানীয়। খালি পেটে পান করলে তা শরীরের জন্য বেশী ভালো।
রোদপোড়া থেকে বাঁচতে অ্যালোভেরার শরবত অনন্য। এটা হজমে সাহায্য করে, বুক জ্বালাপোড়া কমায় ও পেটের নানারকম সমস্যা দূর করে। গরমে প্রতিদিন এক গ্লাস অ্যালোভেরার শরবত পান করলে ‘স্ট্রোক’য়ের ঝুঁকি কমে আসে।
ডাবের পানির গুণাগুণ সম্পর্কে প্রায় সবারই জানা। দুপুরের গরম থেকে মুক্তি পেতে ডাবের পানি পান করুন, সতেজ অনুভব করবেন। এটা তাৎক্ষণিকভাবে তৃষ্ণা মেটায় ও দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা বজায় রাখে।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন