শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

তুরস্কে ইউক্রেন ও রাশিয়া আলোচনা, হামলা কমানোর আশ্বাস মস্কোর

মঙ্গলবার, মার্চ ২৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: দুই সপ্তাহ পর ফের সম্মুখ আলোচনায় বসেছেন যুদ্ধরত ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা। তাদের আলোচনার লক্ষ্য এক মাসের বেশি সময় ধরে চলে আসা যুদ্ধের ইতি টানা। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রুশ বার্তাসংস্থা তাসের খবরে জানা গেছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় দলমাবাখে দুই প্রতিনিধিদলের আলোচনা হয়েছে। আলোচনাটি তিন ঘণ্টাব্যাপী ছিল। আলোচনা শেষে রাশিয়ার প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেডিসঙ্কি বলেছেন, প্রথম দিনের আলোচনা ‘গঠনমূলক’ ছিল।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশেপাশে সামরিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া-ইউক্রেন প্রতিনিধিদলের বৈঠকের ঠিক আগে এ ঘোষণা দেন রুশ মন্ত্রী। তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ঘোষণা ইস্তাম্বুলের আলোচনা শেষে দেওয়া হবে।

আগামীতে কিয়েভে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে সাংবাদিকদের ফোমিন বলেন, আমরা আশা করি, কিয়েভে মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আরও স্বাভাবিক কাজের জন্য শর্ত তৈরি করা হবে। যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে মানবিক আচরণসহ জেনেভা কনভেনশন সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা আশা করি।
রাশিয়ার এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে ফোমিন বলেন, ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রহীন অবস্থার তৈরির শর্তে একটি চুক্তি প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদানের বিষয়েও ব্যবহারিক পর্যায়ে প্রবেশ করতে রাশিয়া কিয়েভে হামলা হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের বৈঠক শুরু আগে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। ভাষণে এরদোয়ান বলেন, আমি প্রথমেই আপনাদের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। তারা উভয়েই আমার প্রিয় বন্ধু।

‘আপনারা সবাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন। তারপরও বলছি, রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনা নিয়ে দুই দেশের সাধারণ মানুষজনতো বটেই, আমরাও উদ্বিগ্ন। তবে আমাদের বিশ্বাস, বর্তমানে যে উত্তেজনা চলছে- তা থামাতে উভয়পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং একটি একটি শান্তিচুক্তি এই ট্র্যাজেডির অবসান ঘটাতে পারে।

এর আগে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ৫ দিন পর ১ মার্চ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দর লুকাশেঙ্কোর আমন্ত্রণে দেশটির সীমান্তবর্তী শহর গোমেলে শান্তি বৈঠক শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে।

উল্লেখ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশের পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে, এমনকি বেলারুশ থেকেও হামলা চালানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। এক মাসের বেশি ধরে চলছে দু’পক্ষের লড়াই। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দেশছাড়া হয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ ইউক্রেনীয়। ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে রাশিয়া। যার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। কয়েক দফায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন