সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

তেলের দাম বড়ানোয় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে মানুষের জীবন

শনিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২১

প্রিন্ট করুন
GM kader 1

ঢাকা: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ‘প্রয়োজন ছাড়াই তেলের দাম বড়ানোয় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়েছে- এ অযুহাতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, এখন তো তেলের দাম কমছে, কিন্তু তেলের দাম কমানে হচ্ছেনা কেন? এর আগে তেলের দাম বিশ্ব বাজারে খুবই কম ছিল, তখনো তেলের দাম কমানো হয়নি। বলা হয় জ্বালানী তেলের চোরাচালান রোধে তেলের দাম বাড়ানো হয়, আসলে কখনোই জ্বালানী তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। ট্রাংকার বা পাইপ লাইনের ছাড়া তেল পাচার করা অসম্ভব। কোন দেশেই জ্বালানী তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়।’

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা সিটি দক্ষিণের বর্ধিত সভার উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের আরো বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম প্রতি লিটার সাত টাকা রেখেছিলেন। এখন সেই ডিজেলের দাম এখন ৮০ টাকা। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ালে দেশের সব মানুষ কষ্ট পায়। প্রতিটি পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে যায় জ্বালানী তেলের দাম বাড়ালে।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় তিনি আরো বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে গণ পরিবহন কোন ঘোষনা ছাড়াই ধর্মঘট শুরু করে। লাখ লাখ মানুষ পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ে সড়কের মাঝে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্তা পরিবহন মালিকদের সাথে সভা করে পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। সাথে সাথে ন্যাচারাল গ্যাসে চালিত বাসগুলোও ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, অথচ গ্যাসের দাম বাড়েনি। আবার সরকার যতটুকু ভাড়া বাড়িয়েছে, শ্রমিকরা তারচেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজী না হলে তাদের পথে নামিয়ে দেয়া হয়।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘কোন ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল দিচ্ছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কারো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। কৃষক যে পণ্য পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি করে, তা হাত ঘুরে রাজধানীতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। দেশের কৃষক পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘গেল বছর অপরিকল্পিকত বিধিনিষেধের দেয়ার কারণে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে অনেক গুণ। যে দেশে তরুণদের সংখ্যা বেশি, সে দেশ তত দ্রুত উন্নতি করে। কিন্তু আমাদের দেশের বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।’

সভায বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, মীর আবদুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, লিয়াকত হোসেন খোকা, জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান মো আরিফুর রহমান খান, যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু।

উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান এইচএম শাহরিয়ার আসিফ, তারেক এ আদেল, আমির উদ্দিন আহেমদ ডালু, যুগ্ম-মহাসচিব ফকরুল আহসান শাহজাদা, মো বেলাল হোসেন, একেএম আসরাফুজ্জামান খান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হেলাল উদ্দিন, নির্মল দাস, এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, মো ফারুক, ইফতেকার আহসান হাসান, সুলতান মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো ইসহাক ভুইয়া, মিজানুর রহমান মিরু, গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম-সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুজন দে, সেরনিয়াবাদ সেকেন্দার আলী, আক্তার হোসেন দেওয়ান, এমএ সোবহান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, শেখ মাসুকুর রহমান, জুবের আলম খান রবিন, শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু, শাহজাহান কবির, মো দ্বীন ইসলাম শেখ, মীর সামসুল আলম লিপটন, শেখ মোহাম্মদ শান্ত।

সিএনএমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন