সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

তেল সংগ্রহ করে মজুদ করতেন শ্বশুরের বাসায়, অবশেষে ধরা কৃষি কর্মকর্তা

শনিবার, মার্চ ১২, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: সম্প্রতি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে অত্যাধিত হারে। আর সংকটময় পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়িতে ৫১২ লিটার তেল মজুত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা লায়েকুজ্জামান। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১১ মার্চ) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার ওই বাসা থেকে ৫১২ লিটার তেলসহ লায়েকুজ্জামানকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, লালমাটিয়ার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লায়েকুজ্জামান। এর পাশে অবস্থিত শ্বশুরের বাসাটিও তিনি দেখাশোনা করতেন। সেই বাসাতেই তিনি ৫১২ লিটার তেল মজুত করেন। গত ছয়দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে এসব তেল বাসায় মজুত করেন তিনি।

গ্রেফতার লায়েকুজ্জামান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “লায়েকুজ্জামান ব্যক্তি পর্যায়ে এসব তেল কিনে জমা করে রাখেন। এসব তেল কেনার রশিদ দেখতে চাইলে তিনি কৃষি মার্কেটের সূর্য এন্টারপ্রাইজের একটি রশিদ দেখান। পরে রশিদটি যাচাই করে দেখা গেছে, সেখান থেকে ১৫৯ টাকা দরে মাত্র ৪০ লিটার তেল কিনেছেন। বাকি তেল তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন। আর সূর্য এন্টারপ্রাইজের ওই রশিদের মাঝখানে নিজ হাতে বাকি তেলের পরিমাণ লিখে বিভিন্ন দাম বসিয়ে দিয়েছেন।”

তিনি আরো জানান, “গ্রেফতার লায়েকুজ্জামান মনে করেছেন বর্তমানে তেলের দাম বাড়তির হওয়ায় রমজানে আরও দাম বাড়তে পারে। তাই বাড়তি লাভের আশায় তিনি তেল কিনে মজুত করে রাখেন।”

ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, লায়েকুজ্জামানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। রিমান্ডে পেলে তাকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অতীতেও এমন কাজ করেছেন কিনা, কিংবা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানা যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, লায়েকুজ্জামান কোনো ব্যবসায়ী নন, ডিলারও নন। প্রাথমিকভাবে এটি তার ব্যক্তিগত অসৎ উদ্দেশ্য বলেই মনে হয়েছে। অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে তিনি তেল মজুত করেছেন। ৫১২ লিটার তেল মজুত করা ফৌজদারি অপরাধ, এটি সংকট সৃষ্টির অপপ্রয়াস।

তিনি বলেন, জনসাধারণকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এ ধরনের মজুতদারী করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন