সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

দেশের টাকায় গান শুনলো বিদেশিরা!

সোমবার, মে ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হয়েছে গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট। তবে এই আয়োজনটি নিয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আভাস পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের। অনেকের মতে এই কনসার্ট দেশের কোটি টাকা খরচ করে সরকারি কর্মকর্তা ও কিছু বিদেশিদের প্রমোদভ্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। কেউ কেউ বলছেন এই কনসার্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। আর এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কজুড়ে এখন চলছে নানামুখী আলোচনা সমালোচনা। 

জানা গেছে, প্রায় বছর খানেক আগে এই অনুষ্ঠানের কথা আলোচনায় আসে। তবে এতদিন কনসার্ট নিয়ে কোন মাতামাতি ছিলো না। খানিকটা লুকোচুরি খেলার মতো হয় পুরো আয়োজন। প্রচার প্রচারণাহীনতার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও জানতেন না এই কনসার্ট সম্পর্কে। আর শেষ মুহূর্তে এসে অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানানো হয় ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে। পরে গত ৪ মে আলোচনা সমালোচনা মাথায় নিয়ে এক নামমাত্র সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যেখানে কনসার্টের জন্য বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

এইদিকে গত ৬ এপ্রিল নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে৷ যাদের কথা অনুষ্ঠানের আগে শোনাই যায় নি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন এমপি,মন্ত্রী ও সরকারি আমলা ও তাদের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে প্রায় ৫৫ জন অংশগ্রহণ করেন। যেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী বাংলাদেশি খবরই জানতেন না।

এমন পরিস্থিতিতে কনসার্টটি নিয়ে অভিযোগের উপর অভিযোগ তুলছেন প্রবাসীরা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের অনিয়ম, সরকারি কর্মকর্তাদের আয়েশ,প্রবাসীদের বেখবর রাখার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক কোন মতেই যেন থামছেনা। কেউ কেউ বলছেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ব্যান্ডদল চিরকুটের অংশগ্রহণের কোন ঘোষণাই দেওয়া হয় নি। তবে চিরকুট ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী ও দলনেতা শারমিন সুলতানা সুমীর তৎপরতায় তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন বলে জানা গেছে। আর এরকম করে তারা জার্মানিতেও একটি কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। যেটি নিয়েও ছিলো নানান বিতর্ক। প্রবাসীরা কনসার্টের নাম করে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে কিনা সে বিষয়েও আঙ্গুল তুলেছেন। আর এমনটা হলে তা জগন্য, ঘৃণ্য ও দেশের জন্য লজ্জার বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনেই আয়োজন করা হয়েছিল ঐতিহাসিক একটি কনসার্টের। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই মহাআয়োজন ইতিহাসের পাতায় দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামেই উজ্জ্বল হয়ে আছে। জগৎবিখ্যাত ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে তখন সেই কনসার্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীত তারকা জর্জ হ্যারিসন। সেই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনেই এবার আয়োজন করা হলো গোল্ডেন জুবলি কনসার্টের।   
গোল্ডেন জুবলি বাংলাদেশ কনসার্ট শুরু হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। শিল্পী কাদেরি কিবরিয়ার সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীতে কণ্ঠমেলান, সেখানে উপস্থিত মন্ত্রী ও এমপিরা। এরপর স্বাগত বক্তব্যে তথ্য ও যোগযাগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কনসার্ট আয়োজনের কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কনসার্ট থেকে পাওয়া অর্থে দরিদ্র ও অনুন্নত দেশগুলোর শিশুদের সাইবার নিরাপত্তায় ব্যয় হবে। আর ইউএনডিপি সঙ্গে মিলে কাজটি করা হবে বলে জানান তিনি। কনসার্টে অংশ নেয় জার্মানির বিখ্যাত রক ব্যান্ডদল স্করপিয়ন্স। আর বাংলাদেশের চিরকুট।

অনুষ্ঠানে মিলনায়তন ভর্তি ছিল মানুষের ঢল। তাদেরকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে কয়েকটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশের আইসিটি ডিভিশনের হাইটেক পার্ক অথরিটি আয়োজিত সেই কনসার্ট দেখার জন্য একই স্রোতে মিশেছিল নানান দেশের, নানান মানুষ। 

তবে কনসার্ট শেষেও গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট নিয়ে তেমন কিছু জানতে না পারার ক্ষোভ বাংলাদেশিদের। এইদিকে কনসার্টের পরে আরো একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়েজন করার কথা ছিলো। কিন্তু কনসার্টের দুই দিন পার হয়ে গেলেও সে সম্মেলনের কোন হদিস নেই। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা থাকা উচিত।সামনের যে কোন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেসব বিষয় মাথায় রাখারও পরামর্শ দেন প্রবাসীরা।

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন